ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ দেশান্তরী হচ্ছে : সন্তু লারমা

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা বলেছেন, দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলো ভাসমান জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। তারা সর্বস্বান্ত হয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশান্তরী হতে বাধ্য হচ্ছে। আগামী বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ ঘোষিত আদিবাসী দিবস উপলক্ষে গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সন্তু লারমা। রাজধানীর একটি হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এবারের আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘আদিবাসী জাতিসমূহের দেশান্তর : প্রতিরোধের সংগ্রাম’। সংবাদ সম্মেলনে সন্তু লারমা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের দেশান্তরী হওয়ার নানা উপাত্ত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অঞ্চলের মানুষ নীরবে দেশত্যাগ করছে। তারা রাষ্ট্রে এতটাই উপেক্ষিত যে, এই দেশান্তরের ইতিহাসও জানা যায় না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ নিয়ে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যম সবসময় নীরব বা উদাসীন। সন্তু লারমা বলেন, দেশে কয়েকটি ক্ষুদ্র জাতির পরিচয় বিলুপ্ত হয়ে গেছে বা বিলুপ্তপ্রায়। কোনো কোনো জাতিসত্তা কোনো রকমে টিকে আছে।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের দেশত্যাগের উদাহরণ তুলে ধরে সন্তু লারমা বলেন, একসময় বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলায় ৫০ হাজারের বেশি রাখাইন জাতির মানুষের বসবাস ছিল। এখন সেখানে এসব জাতির মানুষের সংখ্যা মাত্র ২ হাজার ২০০ জন। অনেকেই দেশান্তরিত হয়েছে অথবা অন্যত্র চলে গেছে নিরাপত্তার কারণে। সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, এ দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ রাষ্ট্রীয়ভাবে উপেক্ষিত। এসব জাতির মানুষের দেশান্তরের ঘটনা প্রাকৃতিক নয়, এটি মানবসৃষ্ট। সংবাদ সম্মেলনে আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস জাতিসংঘ ঘোষিত দিবস। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের উচিত রাষ্ট্রীয়ভাবে এ দিবস পালন করা। কিন্তু দেশে অনেক দিবস পালিত হলেও আদিবাসী দিবস পালিত হয় না। তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসী দিবস পালনের আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সহসাধারণ সম্পাদক গজেন্দ্রনাথ মাহাতো, ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য চঞ্চনা চাকমা প্রমুখ।

"