মোদিকে আলিঙ্গন করলেন রাহুল

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

‘আপনি আমাকে হয়তো পাপ্পু বলতে পারেন, কিন্তু আমি আপনাকে ঘৃণা করি না’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিকে সরাসরি তাকিয়ে কথাগুলো বলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। এরপর সোজা মোদির দিকে হেঁটে এগিয়ে যান। চমকে দেন সবাইকে। আচমকাই মোদিকে আলিঙ্গন করেন রাহুল। ঘটনার আকস্মিকতায় কিছুটা হকচকিয়ে যান মোদিও। কারণ, মোদির বিরুদ্ধে লোকসভায় অনাস্থা প্রস্তাবের আলোচনার শুরুতেই এই চমক দেন রাহুল। এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকা গতকাল শুক্রবার এ কথা জানায়।

অনাস্থা প্রস্তাবের আলোচনায় বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষমতাসীন বিজেপির সমালোচনা শুরু হলে বিজেপি সংসদ সদস্যরা হট্টগোল শুরু করেন। এসব হট্টগোলের মধ্যেই কথা বলতে থাকেন রাহুল। তুমুল হইচইয়ের ফলে কিছুক্ষণের জন্য মুলতুবিও হয় আলোচনা। ফের শুরু আলোচনা শুরু হলেও অব্যাহত থাকে বিশৃঙ্খলা। রাহুল তখনো কথা বলতে থাকেন। তিনি বলেন, আপনারা আমাকে পাপ্পু বলেন। আমার প্রতি আপনাদের অনেক ঘৃণা আছে। কিন্তু আমি আপনাদের সবাইকেই ভালোবাসি। দেশে এই সংস্কৃতি চালু করেছে কংগ্রেস।’ এই কথা বলতে বলতে আচমকা নিজের জায়গা ছেড়ে হেঁটে চলে যান মোদির আসনের কাছে। মোদি ছিলেন বসে। ওই অবস্থাতেই রাহুল ঝুঁকে জড়িয়ে ধরেন প্রধানমন্ত্রীকে।

রাহুলের এমন আচরণে হকচকিয়ে যান মোদি। আলিঙ্গন করেই রাহুল নিজের আসনে ফিরে আসেন। এরই মধ্যে ধাতস্ত হয়ে নেন মোদি। নিজের পোশাক ঠিক করেন। এ সময় রাহুলকে কানে কানে কিছু বলতে শোনা যায়। পরে রাহুলের পিঠ চাপড়ে দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। রাহুল নিজের আসনে ফিরে আসার পর কংগ্রেসের এমপিরা টেবিল চাপড়ে অভিনন্দন জানান। কংগ্রেসের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন জোটের অনেক এমপিও দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানান রাহুলকে। তবে লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজন বলেছেন, এ ধরনের আচরণ পার্লামেন্টের আচরণবিরোধী। টুইটারে ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষ থেকে লেখা হয়েছে, এই বিনোদনের জন্য আমরা আপনাকে যথেষ্ট পরিমাণে ধন্যবাদ জানাতে পারছি না।

এর আগে ভাষণে রাহুল বিজেপি ও মোদিকে আক্রমণ করে কথা বলেন। নরেন্দ্র মোদিকে ‘চৌকিদার নন, ভাগীদার প্রধানমন্ত্রী’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি দেশের চৌকিদার। কিন্তু তিনি আসলে দুর্নীতির ভাগীদার। কারণ বিভিন্ন দুর্নীতির অংশীদার প্রধানমন্ত্রীও। এদিকে, অনাস্থা ভোটের প্রস্তাবে আলোচনা শুরুর আগেই এনডিএর অন্যতম বড় শরিক শিবসেনা জানায়, আলোচনা ও ভোটাভুটিতে তারা অংশ নেবে না। শুরুতেই কক্ষ ত্যাগ করেন বিজু জনতা দলের সংসদ সদস্যরা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, মোদির বিরুদ্ধে এই অনাস্থা প্রস্তাব পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম। কংগ্রেস চেষ্টা করছে যত কম ব্যবধানে প্রস্তাবটি হেরে যায় সেটা নিশ্চিত করা।

"