সংখ্যায় বেশি বামদল, ভোটে পিছিয়ে

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক দলের পরই সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার বামপন্থী রাজনৈতিক দলের সংখ্যা বেশি। এই দলগুলোর মধ্যে অর্ধেক নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত এবং নিবন্ধনের অপেক্ষায় আছে কয়েকটি দল। দলের সংখ্যার দিক থেকে ডান গণতান্ত্রিক ধারার দলগুলোর চেয়ে সংখ্যায় বেশি হলেও বামদলগুলো ভোটে অনেক পিছিয়ে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে গৃহীত ৫৫ শতাংশ ভোটের ৩.২৩ শতাংশ ভোট

পেলেও সর্বশেষ নবম সংসদ নির্বাচনে সে সংখ্যা আরো কমে যায়।

বামদলগুলোর নেতারা এ বিষয়টিকে নিজেদের ‘দুর্বলতা’ হিসেবেই দেখছেন। তাদের ভাষ্য, আদর্শগত রাজনীতি করতে গিয়ে বামদলগুলোর মধ্যে অন্তর্গত কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে এসব সমস্যাকে চিহ্নিত করে সমাধান করতে পারলেই একটি বিকাশমান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বাম জোট রাজনীতিতে নিয়ামক শক্তি হিসেবে দেখা দেবে।

বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, বামপন্থীদের শক্তি এখন দুর্বল এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। কিন্তু একটি বিকাশমান শক্তি হিসেবে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে আবির্ভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বামদলগুলোর। যদি মিলিতভাবে বামদলগুলো তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে পারে এবং কোনো ধরনের ক্রটিবিচ্যুতির মধ্যে না পড়ে তাহলে আগামীতে বামপন্থীরা জাতির সামনে একটি নিয়ামক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, বামপন্থীদের নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। শাসকশ্রেণির বাধা, লুটপাটের রাজনীতি, স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাম আন্দোলন বিকাশের প্রধান বাধা। পাশাপাশি বামপন্থীদের নিজেদের ভেতরে কিছু সমস্যা রয়েছে। ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কীভাবে জনগণের কাছাকাছি যেতে হবে বামদের সেই ভাবনা-চিন্তায় এখনো যথেষ্ট পরিণতি আসেনি। তারপরও জনগণের কাছে বিকল্প শক্তি হিসেবে দাঁড়ানোর জন্য বামপন্থীরা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে ধীরে ধীরে।

গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশুও স্বীকার করেন, অন্য দলের তুলনায় বাংলাদেশে বামদের শক্তি ও সামর্থ্য কম। তিনি বলেন, বামদলগুলোর একটা মতাদর্শিক রাজনৈতিক অবস্থা থাকে। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত জনগণের আস্থাভাজন সেই রকম সংগঠক বা নেতা তৈরি করতে পারিনি বা হয়নি। এটা একটা বড় ব্যর্থতা আমাদের। সে কারণে বামদলগুলো জনগণের কথা বললেও তাদের আস্থার জায়গায় যেতে পারেনি। তবে যেভাবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিভিন্ন নীতিহীন কর্মকা-ের জন্য দলগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা উঠে যাচ্ছে সেই জায়গাটায় যদি বামরা সঠিকভাবে কাজ করতে পারে তাহলে জনগণের দল হিসেবে গড়ে উঠব আমরা।

বামদলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বধীন ১৪ দলীয় জোটে আছে ১০টি দল। এই দলগুলো হলো ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ (ইনু), জাসদ (বাদল), ন্যাপ (মোজাফফর), গণতন্ত্রী পার্টি, গণআজাদী লীগ, বাসদ (রশীদ খান), কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, সাম্যবাদী দল।

আর ২০ দলীয় জোটে রয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ)- চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি।

এর বাইরে বামদলগুলোর আরো দুইটি জোট রয়েছে। সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন, বাসদ (মার্ক্সবাদী) মিলে গঠন করা হয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। আর জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, জাতীয় গণফ্রন্ট, বাংলাদেশে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন এই তিন দল নিয়ে গঠিত হয়েছে জাতীয় মুক্তি জোট।

"