ভারতে বেড়াতে গিয়ে বাংলাদেশিদের খরচাপাতি?

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

ভারতে প্রতি বছর বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। তারা ভারতে এসে ঠিক কী রকম টাকা-পয়সা খরচ করেন? ভারতের পর্যটনমন্ত্রীর মতে, পশ্চিমা পর্যটকদের চেয়ে বাংলাদেশিদের খরচ করার অঙ্কটা কোনো অংশে কম নয়। বিবিসি বাংলাকে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশিরা কেনাকাটায় আর মেডিকেল বিলে ভারতে বেশ মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করেন আর সে কারণেই ভারত চাইছে, সে দেশ থেকে আরো বেশি পর্যটক আসুক। বিবিসি গতকাল বৃহস্পতিবার এ খবর জানায়।

ভারতে আসা বাংলাদেশি নাগরিকদের খরচের ধরনটা কী রকম এবং ভারতের পর্যটনশিল্পইবা তাদের কী চোখে দেখছে? দিল্লিতে তারই সরেজমিন অনুসন্ধান হয়েছে। পর্যটক আসার ক্ষেত্রে আমেরিকাকে টপকে বছর তিনেক হলো সেই জায়গাটা দখল করে নিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকার ভারতীয় দূতাবাস থেকেই এখন বিশ্বের যেকোনো ভারতীয় মিশনের চেয়ে বেশি ভিসা মঞ্জুর হয় আর প্রতি বছরই অন্তত ১৬-১৭ লাখ বাংলাদেশি এখন ভারতে আসছে। পশ্চিমা দেশগুলোর শ্বেতাঙ্গ পর্যটকদের মতো বেড়াতে এসে তারা অতটা খরচ করেন না বলে যে ধারণা আছে, সেটা সম্পূর্ণ ভুল। ভারতের পর্যটনমন্ত্রী কে জে আলফানসোর বলেন, ‘বাংলাদেশি ট্যুরিস্টরা কিন্তু এখানে এসে প্রচুর টাকা খরচ করেন। তাদের খরচের জায়গা মূলত দুটো, বিয়ের জন্য কেনাকাটা আর মেডিকেল ট্যুরিজম। এই দুটো খাতেই তারা বিপুল খরচ করেন, কোনো কার্পণ্য না করে দুই হাতে টাকা খরচ করেন। কাজেই আমি তো খুব খুশি বাংলাদেশিদের বলব আপনারা আরো বেশি করে আসুন!’ ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকা থেকে যে পর্যটকরা ভারতে আসে, তারা তাদের বাজেটের একটা বড় অংশ খরচ করে পাঁচতারা হোটেলে কিংবা প্যালেস অন হুইলসের মতো বিলাসবহুল ট্রেনে বা পরিবহনে।

দিল্লিতে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুর অপারেটরস বা আইএটোর প্রেসিডেন্ট প্রণব সরকার বলেন, একজন ইউরোপিয়ান ট্যুরিস্ট যদি গড়ে দৈনিক ১০০ ডলার খরচ করেন, বাংলাদেশিরা কিন্তু কুড়ি থেকে পঁচিশ ডলারের মধ্যেই খরচটা সীমিত রাখছেন। মানে ইউরোপীয়দের তুলনায় গড়ে একজন বাংলাদেশি আমাদের পর্যটন খাতে মাত্র পঁচিশ শতাংশ খরচ করছেন।

কলকাতার হিন্দুস্তান ট্র্যাভেলসের শিবানী ভট্টাচার্য বলেন, ‘কলকাতায় আসা বাংলাদেশিদের প্রধান টার্গেটই থাকে শপিং। তাদের জন্য ট্র্যাভেল প্ল্যান করার সময় আমাদের সব সময় বলা হয়, অন্তত একটা পুরো দিন যেন কেনাকাটার জন্য বরাদ্দ থাকে! আসলে কলকাতায় আধুনিক ফ্যাশনেবল জামাকাপড় ও অন্যান্য আরো নানা জিনিস তুলনায় সস্তায় পাওয়া যায়, এই ধারণা থেকেই বোধহয় সেটা করা হয়! পশ্চিমা দেশের পর্যটকরা যে একেবারে কেনাকাটা করে না, তা নয়। তারা যত বেশি সম্ভব ঘুরতে চায়। কিন্তু তারাও জিনিসপত্র কেনে, তবে বড়জোর দু-একটা। কিন্তু বাংলাদেশিরা ব্যাগবোঝাই করে কিনে নিয়ে যান।

ভারতের পর্যটন বিভাগ বিজ্ঞাপনী ক্যাম্পেন, প্রোমো বা রোড শোর মাধ্যমে চিরকাল পশ্চিমা দেশের পর্যটকদেরই টানার চেষ্টা করে এসেছে, কিন্তু পর্যটনমন্ত্রী কে জে আলফানসো বিবিসিকে বলছিলেন, সেই দৃষ্টিভঙ্গি এখন পাল্টানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমার দেশে সাদা, কালো না বাদামি চামড়ার পর্যটক এলো তাতে আমার কিচ্ছু আসে-যায় না। যতক্ষণ তারা এ দেশে কর্মসংস্থান তৈরি করছেন, আমার পকেটে টাকা আসছে আর ভারতকে দেখে তারা বলছেন ‘বাহ্, কি সুন্দর দেশ’ তাতেই আমরা খুশি।” বাংলাদেশিরা কেনইবা ভারতে আসবেন না; এত কম খরচে এত ভালো ডাক্তার আর চিকিৎসা পরিষেবাইবা তারা কোথায় পাবেন?

"