চট্টগ্রামে রাইফার মৃত্যু

দায়ী ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্মারকলিপি

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত তিন চিকিৎসক এবং ম্যাক্স হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ তিন দফা দাবিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)। গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. হাবিবুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, বিএফইউজের নব নির্বাচিত সহসভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, সিইউজের সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, সিইউজের যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভ, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম ইফতেখারুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আহমেদ কুতুব, নির্বাহী কমিটির সদস্য উত্তম সেনগুপ্ত, আজাদী ইউনিট প্রধান খোরশেদ আলম, কর্ণফুলী ইউনিট প্রধান মোহাম্মদ আলী পাশা, প্রিয় চট্টগ্রাম ইউনিট প্রধান বিশু রায় চৌধুরী প্রমুখ।

এ সময় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, শিশু কন্যা রাইফার মৃত্যুর পর চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি রাইফার মৃত্যুর জন্য চিকিৎসকের অদক্ষতা, দায়িত্বে অবহেলাকে দায়ী করে তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন। একইভাবে বেসরকারি হাসপাতাল ম্যাক্সের বিরুদ্ধেও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেন। একইভাবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের গঠিত তদন্ত কমিটিও ঘটনাটি তদন্ত করে ম্যাক্স হাসপাতালের বিরুদ্ধে ১১টি অনিয়ম চিহ্নিত করেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ইতোমধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা হলেও তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের সহযোগী। সরকার জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু সরকারের এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কতিপয় চিকিৎসক এবং ব্যাঙের ছাতার মতো বেআইনি প্রক্রিয়ায় গড়ে উঠা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক বাধাগ্রস্ত করছে। এর মধ্যে ম্যাক্স হাসপাতালটি অন্যতম। ঔষধ প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও তা স্পষ্ট হয়েছে।

তারা বলেন, ম্যাক্স হাসপাতালকে ১৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল বলা হলেও হাসপাতালটিতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিয়োগকৃত কোনো চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং প্যাথলজিস্ট নেই। হাসপাতালে রোগিদের ওষুধ সরবরাহের জন্য বৈধ কোনো ড্রাগ লাইসেন্স নেই। স্বাস্থ্য অধিদফতর, ঔষধ প্রশাসন এবং র‌্যাবের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানেও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষধ ব্যবহার, অশিক্ষিতদের দিয়ে প্যাথলজিস্ট চালানো, অন্য প্যাথলজি ল্যাব থেকে টেস্ট করে এনে নিজেদের প্যাড ব্যবহার করে রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এতসব অনিয়ম থাকা সত্ত্বেও ম্যাক্স হাসপাতাল বন্ধ না করায় সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেন সাংবাদিক নেতারা।

সাংবাদিক নেতারা, চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত তিন দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতি আহ্বান জানান। অন্যথায় দাবি আদায়ে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন, চট্টগ্রামের সকল সাংবাদিক এবং সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে নিয়ে রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত চিকিৎসক, ম্যাক্স হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া ও সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণকারী ডা. ফয়সাল ইকবালের বিচার দাবিতে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

"