জনগণের মুখোমুখি ৪ মেয়র প্রার্থী

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচন ঘিরে নগরীতে উৎসব-উত্তেজনার পাশাপাশি চলছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। প্রতিদিনই হেভিওয়েট দুই প্রার্থীর পক্ষ থেকে পরস্পরের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হচ্ছে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত পাঁচ দিনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে ১৩টি এবং ২০ দলীয় জোটের মেয়র প্রার্থীর পক্ষ থেকে চারটি অভিযোগপত্র পড়েছে। এ ছাড়াও ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী রবিউল আলম মিলু অভিযোগ করেছেন একটি। এ তথ্য গতকাল শনিবার বিকেল সোয়া ৫টায় প্রতিদিনের সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিটি নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান।

অভিযোগগুলো হলোÑ আচরণবিধি লঙ্ঘন, দলীয় প্রচারকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, গ্রেফতারসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে এসব পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হচ্ছে। আর সরকারদলীয় প্রার্থী লিটনের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও প্রচারকাজে পুলিশি বাধার অভিযোগ করছেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুরাদ মোর্শেদের পক্ষে রাজশাহী নগরীর রানীবাজার এলাকায় গতকাল শনিবার সকালে গণসংযোগকালে জোনায়েদ সাকি এসব অভিযোগ করেন।

এদিকে বর্তমানে মুদি দোকান থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডা, বিপণিবিতান থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ সবখানে সিটি নির্বাচন নিয়েই চলছে আলোচনা-সমালোচনা। একই সঙ্গে চলছে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের হিসাব-নিকাশ। ভোটের প্রচারে কাজে লাগছে বেকার নারী-পুরুষ। তারা নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি করছেন ভোট প্রার্থনা, চলছে গভীর রাত পর্যন্ত।

নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর প্রতিটি রাস্তাঘাট ও অলিগলি ব্যানার-পোস্টার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। তবে প্রচারণায় দখল রেখেছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী লিটন।

এদিকে গত শুক্রবার থেকে বুলবুলের সঙ্গে প্রচারণায় নেমে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন পুঠিয়া দুর্গাপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তাফা। এতে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

সকাল হলেই তারা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। দুপুর গড়ালেই মাইকে চলছে প্রচার-প্রচারণা। মিছিল-মিটিংও থেমে নেই। বিকেল হলেই স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠছে প্রতিটি পাড়া ও মহল্লা। এবার রাজশাহী সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচজন, কাউন্সিলর পদে ১৬০ ও সংরক্ষিত আসনে ৫২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জনগণের মুখোমুখি ৪ মেয়র প্রার্থী : শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর মুনলাইট গার্ডেনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর উদ্যোগে ‘জনগণের মুখোমুখি’ হয়েছেন মেয়র প্রার্থীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির প্রার্থী মো. মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম ও গণসংহতি আন্দোলনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুরাদ মোর্শেদ। তবে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রাথী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান উপস্থিত হতে পারেননি।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের রাজশাহী মহানগর সভাপতি মো. পিয়ার বক্স ও জেলা সভাপতি মো. সফিউদ্দিন আহমেদ।

এ সময় প্রথমে সিটি করপোরেশনের নাগরিকরা মেয়র প্রার্থীদের কাছে তাদের প্রত্যাশা জানান। পরে মেয়র প্রার্থীরা তাদের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। পরে জনগণ ও মেয়র প্রার্থীদের মাঝে প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়। জনগণ নির্বাচনে ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীদের ভোট দেবেন বলে অঙ্গীকার করেন। মেয়র প্রার্থীরাও কোনো ধরনের টাকা, দুর্নীতি, ভোট ডাকাতি করবেন না এবং জনকল্যাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

"