বাগমারায় গ্রামবাসী পুলিশ সংঘর্ষ গুলিবিদ্ধ ৯

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি

রাজশাহীর বাগমারায় নরদাশ ইউনিয়নের বাসুদেবপাড়ায় পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে ৯ গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ ও চার পুলিশ সদস্যসহ ৩০ জন আহত হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ওই ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।

গুলিবিদ্ধরা হলেন, বাসুদেবপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৪২), রিমা বেগম (২৫), পিয়ারুল ইসলাম (৩৮), লতিফা বেগম (২৯), আবদুল মজিদ (৬০), মজনুর রহমান (৩৮), মমেনা বেগম (৩০), ছামেনা বেগম (২৮) ও শহিদুল ইসলাম (২৮)। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বাসুদেবপাড়া গ্রামের তাছের আলী (৫০), ইয়ার বক্স (৫৫) ও জাবের আলী (৪৮)।

এলাকার লোকজন জানান, নরদাশ ইউনিয়নের জোকাবিলা বিলে মাছ চাষে ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন থেকে হাটমাধনগর গ্রামের লোকজনের সঙ্গে একই ইউনিয়নের বাসুদেবপাড়া গ্রামের লোকজনের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। দ্বন্দ্ব মিমাংসার পূর্বেই হাটমাধনগর গ্রামের লোকজন জোকাবিলায় মাছের পৌনা অবমুক্ত করেন। মাছ ছাড়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির আশ্বাস দেন। এতে বাসুদেবপাড়ার লোকজন মেনে নেন। এ দিকে, গতকাল শুক্রবার সকালে হাটমাধনগর গ্রামের লোকজন জোকাবিলার বাসুদেবপাড়ার খালের সুইচ গেট বন্ধ করার চেষ্টা করে। বাসুদেবপাড়া গ্রামের লোকজন বাধা দিলে তারা পুলিশের সহযোগিতা নেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে গ্রামবাসীর বাধার সম্মুখিন হন। পুলিশ সুইচ গেটের মুখে লোহার খাচা নামানোর চেষ্টা করলে বাসুদেবপাড়া গ্রামের নারী-পুরুষ সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিহতের চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে গ্রামবাসী পুলিশের ওপর চওড়া হলে পুলিশ লাঠি চার্জ শুরু করে। গ্রামবাসী পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকলে পুলিশ গ্রামবাসীর ওপর রাবার বুলেটের গুলি চালায়। এতে ৯ গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশের দাবি গ্রামবাসীর হামলায় থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ ও উপপরিদর্শক (এসআই) শাহীন দেওয়ানসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হয়।

জানা যায়, জোকাবিলা মাছ চাষকে কেন্দ্র করে গত তিন বছর ধরে বিবাদ রয়েছে। এ নিয়ে বাগমারা থানায় ও রাজশাহীর আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রতিপক্ষের হামলায় জোকাবিলা মৎস্য চাষ সমবায় সমিতির অর্থবিষয়ক সম্পাদক আনছার আলী নিহত হন। ওই ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে বাগমারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত আনছার আলী ছেলে মহাসীন আলী।

"