খাগড়াছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যানের ওপর হামলা : আটক ৪

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউপিডিএফ সমর্থক চঞ্চুমনি চাকমা। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার সময় কোর্ট রোড সড়কে তিনি হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় ৪ সন্ত্রাসীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। এ ছাড়া খাগড়াছড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মুমূর্ষু অবস্থায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই হামলার জন্য সংস্কারবাদী জেএসএস সমর্থকদের দায়ী করা করে ইউপিডিএফ। তবে জেএসএস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী চেয়ারম্যানের গাড়ি ড্রাইভার চিকু বড়–য়া বলেন, ‘চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি স্যার আমাকে বলেন, চিকু তুমি পেছনে বস আমি চালাই। আমরা দুইজন মোটরসাইকেলযোগে জেলা সদরের সাতভাইয়া পাড়াস্থ বীণা উপকেন্দ্র থেকে ফিরছিলাম। পথে শহরের কবরস্থান সংলগ্ন খাগড়াছড়ি ইসলামিয়া মাদ্রাসার সামনে ৩ জন পাহাড়ি যুবক মোটরসাইকেলযোগে এসে আমাদের গতিরোধ করে। প্রথমে তাকে লাথি মেরে ফেলে দেয়, আমি তখন মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কের পাশে ড্রেনে পড়ে যাই।’

‘এ সময় ওই তিন যুবক ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে অন্য একটি মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চামকা স্যার তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে কোর্ট বিল্ডিং প্রেস ক্লাবের দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।’ এ সময় জনতা হামলাকারী চারজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে বলেও জানান চিকু বড়–য়া।

পরে, পুলিশের সহায়তায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। খাগড়াছড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বেলা ২টার দিকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ছুটে যান খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (অরএমও) ডা. নয়নময় ত্রিপুরা জানান, ‘তার মাথায় আঘাত লেগেছে, একাধিক সেলাই করতে হয়েছে। খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাদাত হোসেন টিটো বলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা ইউপিডিএফ সমর্থক। ধারণা করা হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা করতে পারে। আটক ৪ যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এদিকে, ইউপিডিএফের মুখপাত্র নিরন চাকমা’র স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই হামলার জন্য সংস্কারবাদী জেএসএস সমর্থকদের দায়ী করা হয়েছে। সেখানে এই হামলার ঘটনায় নিন্দা ও দোষীদের শাস্তির দাবি করা হয়।

অপরদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘ইউপিডিএফ জেএসএস’র বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। চঞ্চুমনি চাকমা ব্যক্তিগত চরিত্রের কারণে ও জনবিরোধী কার্যকলাপের জন্য অত্যন্ত বিতর্কিত; এ নিয়ে দলেও কোন্দল রয়েছে। তাই তার ওপর জনগণের যে কারো ক্ষোভের সঞ্চার হতে পারে। এই ধরনের ঘটনায় জেএসএস আগেও জড়িত ছিল না এখনও জড়িত নয়।’

উল্লেখ্য, গত ৩ মে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা নিহতের পর থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা।

"