কে জিতবেন গোল্ডেন গ্লাভস?

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

আমির হোসেন

সাবেক সোভিয়েন ইউনিয়নের কিংবদন্তি গোলরক্ষক লেভ ইয়াসিনের সম্মানে ১৯৯৪ বিশ্বকাপ থেকে চালু হয় সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার। তখন এটার নাম ছিল ‘লেভ ইয়াসিন অ্যাওয়ার্ড’। তবে ২০১০ সালে নাম বদলে যায় পুরস্কারটির। নতুন নাম হয় ‘গোল্ডেন গ্লাভস’। আর নতুন এ পুরস্কারটি প্রথমবার ওঠে স্পেনের গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াসের হাতে। ২০১৪ সালে পান চ্যাম্পিয়ন জার্মানির গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার। এবার কে পাবেন? গ্রুপপর্ব থেকে শুরু করে ফাইনাল পর্যন্ত যে গোলরক্ষক সবচেয়ে বেশি সেভ করেন এবং টাইব্রেকারে সবচেয়ে বেশি ভালো করেন তাদের বেশ কয়েকজনের নাম প্রস্তাব করবে ফিফার টেকনিক্যাল কমিটি। সেখান থেকেই বাছাই করা হবে সেরা গোলরক্ষক। রাশিয়া বিশ্বকাপে গোল্ডেন গ্লাভস জয়ের দৌড়ে এগিয়ে আছেন বেশ কয়েকজন। চলুন দেখে নেওয়া যাক তাদের।

ড্যানিয়েল সুবাসিচ (ক্রোয়েশিয়া) : ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক সুবাসিচ গোল্ডেন গ্লাভস জয়ের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন। শেষ ষোলো ও কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে টাইব্রেকারে তিনি দুই-দুইবার দলকে জিতিয়েছেন। ডেনমার্কের বিপক্ষে টাইব্রেকারের সময় তিন-তিনটি শট তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে রাশিয়ার বিপক্ষে প্রথম পেনাল্টিটি তিনি ঠেকিয়ে দেন। গড়েন চারটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেওয়া রেকর্ড। তার বীরত্বে ক্রোয়েশিয়া সেমিফাইনালের টিকিট পায়। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ খেলে ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালে তুলেছেন দেশকে। এ পর্যন্ত ৫ ম্যাচ খেলে দুটিতে ক্লিন শিট রেখেছেন। তার সেভ রেট ৭৫ শতাংশ। আর গোল কিকের মাধ্যমে ৬৫ শতাংশ বল সঠিকভাবে সতীর্থদের দিতে পেরেছেন তিনি। তাই গোল্ডেন গ্লাভস জয়ের দৌড়ে এগিয়ে তিনি। ক্রোয়েশিয়া যদি বিশ্বকাপ জিতে যায়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই তার হাতেই উঠবে বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার।

হুগো লরিস (ফ্রান্স) : ফ্রান্স যদি শিরোপা জিতে, তাহলে গোল্ডেন গ্লাভস জয়ের দৌড়ে তিনিও এগিয়ে থাকবেন। সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ক্লিন শিট রাখেন। কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেছেন। নজর কেড়েছেন ফুটবলবোদ্ধাদের। উরুগুয়ের মার্টিন কাসেরেসের নেওয়া হেডটি পাখির মতো ওড়ে গিয়ে সেভ করেছেন। এই সেভটি করতে না পারলে ম্যাচের মোর ঘুরে যেতে পারত। ফ্রান্সের এই গোলরক্ষক এখন পর্যন্ত ৫ ম্যাচে তিনটিতে কোনো গোল হজম করেননি। তার সেভ রেট ৭৩.৩। গোল কিকের মাধ্যমে ৫৩ শতাংশ বল সফলভাবে তিনি সতীর্থদের দিতে পেরেছেন।

থিবাউট কোর্তোয়া (বেলজিয়াম) : ব্রাজিলের বিপক্ষে অসাধারণ ম্যাচ খেলে ফুটবলবোদ্ধাদের নজর কেড়েছেন থিবাউট কোর্তোয়া। নেইমার-কুতিনহোদের একের পর এক শট তিনি অবলীলায় ঠেকিয়ে দিয়েছেন। নয়-নয়টি দুর্দান্ত সেভ করে শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের মতো একটি দলকে হারিয়ে দেন তিনি। দলকে তোলেন সেমিফাইনালে। তার আগে শেষ ষোলোতে জাপানের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে বেলজিয়াম যে গোলে জিতেছিল সেই গোলের পেছনের কারিগর ছিলেন কোর্তোয়া। বল ধরেই দ্রুত তিনি পাস দেন। সেটা নিয়ে ৯.৯৪ সেকেন্ডের মধ্যে গিয়ে গোল দিয়ে আসেন চাদলি। ৬ ম্যাচের দুটিতে রেখেছেন ক্লিন শিট। তার সেভ রেট বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি, ৭৮.৬ শতাংশ। গোল কিকে সতীর্থদের বল দেওয়ার সাফল্যও তার সবচেয়ে বেশি, ৮০ শতাংশ। বেলজিয়াম ফাইনালে উঠতে পারলে নিশ্চিতভাবে তিনি গোল্ডেন গ্লাভস জিততেন। এখনো আছেন জেতার লড়াইয়ে।

জর্ডান পিকফোর্ড (ইংল্যান্ড) : গোল্ডেন গ্লাভস জয়ের তালিকায় রয়েছেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। গ্রুপপর্ব থেকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত ছয়টি ম্যাচই খেলেছেন তিনি। ৬ ম্যাচের দুটিতে তিনি ক্লিন শিট রেখেছেন। তার সেভ রেট ৭১.৪ শতাংশ। গোল কিকের মাধ্যমে সতীর্থদের কাছে বল সঠিকভাবে দেওয়ার সাফল্য ৭৪ শতাংশ। ক্লিয়ানেস ১৮। সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করেন তিনি। অবশ্য শেষ পর্যন্ত দলকে হারের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি। কলম্বিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারেও ভালো করেছেন তিনি। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ভালো করতে পারলে গোল্ডেন গ্লাভস জয়ের সম্ভাবনা তারও থাকবে।

এ ছাড়া কলম্বিয়ার ওচোয়া, উরুগুয়ের মুসলেরা, ডেনমার্কের স্মাইকেল ও রাশিয়ার আকিনফেভ গোলপোস্টের নিচে বীরত্ব দেখিয়েছেন। তাদের দলগুলো বিদায় নেওয়ায় খুব বেশি আলোচনায় উঠে আসেননি তারা।

"