কোটা আন্দোলনকারীদের প্রতি সহানুভূতি চাইলেন রওশন

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

সংসদ প্রতিবেদক

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে সরকার প্রধানের প্রতি এই আহ্বান জানান বিরোধী দলীয় নেতা।

রওশন বলেন, ‘কোটা নিয়ে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে অনেক বিভ্রাট দেখা যাচ্ছে। কোটা নিয়ে আন্দোলন করছে। তারা তো আমাদের সন্তান। তারা তো আব্দার করবেই। তারা তো চাকরি চাইবেই। তাদের চাকরিতে যেমন করে হোক প্রোভাইড করতে হবে। চাকরি দিতে হবে।

‘প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সচেতন আছেন চেষ্টা করছেন। মাননীয় স্পিকারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব তিনি যেন সহানুভূতির দৃষ্টি নিয়ে এই বিষয়টি বিবেচনা করেন।’ চলতি অধিবেশনের বাজেট বক্তৃতাতেও প্রধামন্ত্রীর প্রতি একই

আহ্বান জানিয়েছিলেন জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান রওশন।

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে মোট ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত; এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য রয়েছে ৩০ শতাংশ পদ।

কোটার মোট পরিমাণ ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে কয়েক মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’। তাদের আন্দোলনের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ এপ্রিল সংসদে বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতিই আর রাখা হবে না।

এরপর প্রধানমন্ত্রীর ‘ঘোষণা’ অনুযায়ী কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামার পর তাদের ওপর হামলায় হয়, কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতারও করে পুলিশ।

এ দিকে গত ২ জুলাই সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে কোটা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দিতে বলে। ওই কমিটি গত ৮ মে তাদের প্রথম বৈঠকে কর্মপন্থা নির্ধারণের পাশাপাশি কোটার বিষয়ে দেশি-বিদেশি তথ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়।

সংসদে পাস হওয়া বাজেট প্রসঙ্গে রওশন বলেন, ‘বাজেটে প্রণোদনা নেই। ব্যাংক লুটপাটকারীদের কর কমানো হয়েছে। ব্যাংক খাতে লুটপাট চলছে। মানুষের করের টাকায় দিতে হচ্ছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। ব্যাংক খাতের নৈরাজ্য বন্ধ করতে হলে সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। ১৬ লাখ মানুষ ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দিয়েছে।’

সংসদে বক্তব্য দিতে ওঠলে রওশন সব সময় খাদ্যে ভেজালের প্রসঙ্গ তোলেন। সেই প্রসঙ্গ গতকাল বৃহস্পতিবারও তোলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুযোগ করে তিনি বলেন, ‘যতবারই বলি প্রধানমন্ত্রী হেসে উড়িয়ে দেন। হেসে উড়িয়ে দেওয়ার কথা না। ডিজিটাল বাংলাদেশ কীভাবে গড়বেন? আবহাওয়া পর্যন্ত দূষিত। নদী ভালো রাখেনি। আবহাওয়ায় সিসা। এগুলো দেখতে হবে।’

রাজধানীতে যানজট নিয়ে সরকারের মন্ত্রীরা ‘সাহস’ করে কথা বলতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন বিরোধী নেতা।

‘প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি চলাচল করলে রাস্তা বন্ধ রাখা হয়। রাস্তায় যানজট ছাড়তে ছাড়তে রাত হয়ে যায়। অন্য রাস্তায় যাওয়াই যায় না। বৃষ্টিতে সব রাস্তা ভাঙা। কেউ বলে না সাহস করে। এখানে যারা আছেন সবাই জানেন। রোডস হাইওয়ে মন্ত্রী আছেন। কিন্তু কারো সাহস নেই বলার। সবাই যানজটে নাকাল থাকে।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘নদী থেকে বালু তুলছে। আপনি জনগণের নেতা আপনি বের হয়ে দেখতে না পারলে কিভাবে হবে। বের হয়ে দেখেন। আপনাকে রোধ করতে হবে এগুলো। আপনাকে দায়িত্ব দিয়েছি আমরা। আপনি জাতির পিতার কন্যা। আমার কাছে ক্ষমতা থাকলে আমি দেখতাম।’

অর্থবছর পরিবর্তনের দাবি করে রওশন বলেন, ‘অর্থবছর পরিবর্তনের কথা বলতে চাই। ব্রিটেনে অর্থবছর শুরু হয় এপ্রিল মাসে। যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবরে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী জানুয়ারি-এপ্রিল মাসে হতে পারে। যখন অর্থ ছাড় শুরু হয় বৃষ্টি আসে। কাজ ঠিকমতো করতে পারি না। অর্থবছর পরিবর্তনের বিষয়ে সবাই বিবেচনা করবেন।’

"