তিন জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৪

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

কুষ্টিয়া ও নাটোরের বড়াইগ্রামে র‌্যাবের সঙ্গে এবং লক্ষ্মীপুরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে চারজন নিহত হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার মিরপুরে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জেলার ফুটু ওরফে মুন্না (৪০) এবং রাসেল আহম্মেদ (৩০) নামের দুজন নিহত হয়েছেন। নিহত ফুটু ওরফে মুন্না কুষ্টিয়া শহরের রাজারহাট মোড় এলাকার মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে ও রাসেল আহম্মেদ একই এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে। তারা তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী বলে জানিয়েছে র‌্যাব। গত মঙ্গলবার শেষ রাত সাড়ে ৪টায় এ ঘটনা ঘটে। র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মোহাইমিনুর রশিদ জানান, মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে একদল মাদক ব্যবসায়ী মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের কাটদহ বালুচরসংলগ্ন জোয়াদ্দারের ইটভাটার কাছে অবস্থান করছেÑ এমন সংবাদ পেয়ে র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। জবাবে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। ‘বন্দুকযুদ্ধে’র শেষে দুজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে র‌্যাব তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি নাইম এমএম পিস্তল, একটি দেশি ওয়ান শুটারগান, ১২ রাউন্ড গুলি ও ৪০ লিটার চোলাই মদ, ১৫০০ পিস ইয়াবা ও ২৩০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

নাটোর ও বড়াইগ্রাম : নাটোরের বড়াইগ্রামের বাহিমালী এলাকায় গত মঙ্গলবার গভীর রাতে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ওসমান গণি (৩২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার বনপাড়া পৌর এলাকার গুরুমশইল গ্রামের মৃত মনসুর আলী মুন্সীর ছেলে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই র‌্যাব সদস্য। তারা হলেনÑ র‌্যাবের উপপরিদর্শক মনজুর আহমেদ ও কনস্টেবল এনামুল হক।

র‌্যাব-৫, নাটোর সিপিসি-২-এর মেজর শিবলী মোস্তফা জানান, র‌্যাবের একটি টহল দল নিয়মিত ডিউটি পালনকালে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বাহিমালী মোড় হতে ভাটুপাড়া গ্রামের দিকে যাচ্ছিল। পথে সন্দেহভাজন কিছু লোকের আনাগোনা দেখে টহল দল ওইদিকে অগ্রসর হতে থাকে। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলে তারা র‌্যাবের টহল দলকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। র‌্যাবও পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। উভয়পক্ষের মধ্যে প্রায় ৫ মিনিট গুলিবিনিময় শেষে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এ সময় র‌্যাব ঘটনাস্থল থেকে ওসমান গণিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে একটি ৭.৬২ বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলিভর্তি একটি ম্যাগাজিন, পিস্তলের গুলির একটি খালি খোসা, সাদা পলিথিনের প্যাকেটে ৪১০ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ৪১০ টাকা, একটি চার্জার লাইট, দুটি গ্যাস লাইট, একটি মোবাইল ফোন সেটসহ বিভিন্ন দ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলিপ কুমার দাস জানান, ওসমান গণির বিরুদ্ধে নাটোর জেলার বিভিন্ন থানায় মাদক ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত পাঁচ মামলা রয়েছে। এদিকে ওসমান গণির ভাই শাহিন শেখ জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে বনপাড়া পৌরসভার রশিদ ডিলারের মোড় থেকে র‌্যাব সদস্যরা হেলমেট পরিয়ে ওসমান গণিকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে র‌্যাব, ডিবি ও থানা অফিসে খোঁজ করা হলে তারা ওসমান গণিকে আটক বা তুলে আনার কথা অস্বীকার করেন। এরপর রাত ২টার দিকে ফেসবুকে সাংবাদিকদের নিউজ দেখে জানা যায়, র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হয়েছেন। পরিবারের দাবি, ওসমান গণি গত ছয় মাস যাবত কোনো মাদক কেনাবেচায় জড়িত ছিলেন না।

লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকালে পুলিশ ও ডাকাত দলের মধ্যে গোলাগুলিতে সুরাইয়া সোহেল নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় এসআই মোতাহের হোসেন ও গোলাম মোস্তফা নামে দুই পুলিশ সদস্যও আহত হন।

নিহত সোহেল রায়পুরের উত্তর দেনায়েতপুর গ্রামের মৃত মুনাফের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদকের ছয়টিসহ ২২টি মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। নিহতের মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আজিজুর রহমান মিয়া জানান, লক্ষ্মীপুর সদরের ঝুমুর সিনেমা হল এলাকা থেকে ২২ মামলার আসামি সুরাইয়া সোহেলকে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আটক করা হয়। পরে রাতে তাকে নিয়ে অভিযানে গেলে তার সহযোগীরা তাকে ছিনিয়ে নিতে গুলি চালায়, পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় তাদের গুলিতে সোহেল গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি, ৯ রাউন্ড কার্তুজ ও ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

"