জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলায় খালেদার শুনানি ফের পেছাল

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে হাজির না করায় জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যুক্তিতর্কের শুনানি আবার পিছিয়েছে। খালেদার আইনজীবীদের আবেদনে তার জামিনের মেয়াদ ১৭ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন আদালত। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এদিন শুনানিতে বিচারককে বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়াকে এজলাসে হাজির করতে চাইলেও তিনি ‘নিজে থেকেই’ আসছেন না। আসামিপক্ষের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া এ সময় খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে বিচারক তা ১৭ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন।

খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী নুরুজ্জামান তপন বলেন, মঙ্গলবার এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ছিল। জামিনে থাকা দুই আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খানও আদালতে হাজির ছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসনকে আদালতে হাজির না করার পেছনে কারা কর্তৃপক্ষ কী কারণ দেখিয়েছে- জানতে চাইলে এ আদালতের পেশকার মোকাররম হোসেন বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ আগের মতোই একটি কাস্টডি স্লিপ পাঠিয়ে বলেছে, ‘নট ফিট ফর টুডে’।

সর্বশেষ গত ১৩ মার্চ মুন্নার পক্ষে আংশিক যুক্তিতর্ক হয়। এরপর বিচারক কয়েকটি তারিখ রাখলেও কোনো দিনই খালেদা জিয়াকে হাজির করা হয়নি। এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজার রায়ের পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। আর জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার চলছে ওই কারাগার থেকে সিকি কিলোমিটার দূরত্বে বকশীবাজারে কারা অধিদফতরের মাঠসংলগ্ন বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে। এ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামানই এতিমখানা দুর্নীতির দায়ে খালেদা জিয়ার সাজার রায় দেন।

জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে আসা ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুদক। তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এরপর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিচারকাজ শুরু হয়।

খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন সহকারী একান্ত সচিব বিআইডব্লিউটিএয়ের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানও এ মামলায় আসামি। আসামিদের মধ্যে হারিছ চৌধুরী পলাতক। মুন্না ও মনিরুল জামিনে।

রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি যুক্তিতর্কের শুনানিতে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে দুদক। অপরাধ প্রমাণিত হলে দুদক আইনে তাদের সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদন্ড হতে পারে।

"