তাদের অনুপস্থিতি ভোগাল দলকে

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

নকআউট পর্বের প্রায় সব ম্যাচই উত্তেজনার রেণু ছড়িয়েছে। শেষ ষোলো থেকে শুরু করে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত। কিন্তু শেষ অবধি ব্যবধান গড়ে দিয়েছে তারকা খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি। নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্রাজিলের ডিফেন্ডার ক্যাসেমিরো খেলতে পারেননি কোয়ার্টার ফাইনালের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। দুইটি হলুদ কার্ড দেখায় বেঞ্চে বসে সুইডেনের হার দেখতে হয়েছে মিকায়েল লাস্টিককে। ইনজুরির কারণে এডিনসন কাভানি দেখেছেন কীভাবে বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে ছিটকে গেছে উরুগুয়ে। একইভাবে চোট শেষ ষোলোর ম্যাচে দর্শক সারিতে পাঠিয়ে দিয়েছে হ্যামেস রদ্রিগেজকে। তার অনুপস্থিতিতে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপে পথচলা থেমে গেছে কলম্বিয়ার।

শেষ ষোলোতে পর্তুগালকে বিদায় করেছিল উরুগুয়ে। ওই ম্যাচে জোড়া করে দলকে শেষ আটে তুলেছিলেন এডিনসন কাভানি। কিন্তু দলকে জেতাতে গিয়ে মাঠের বাইরে ছিটকে যান পিএসজি স্ট্রাইকার, পেয়েছেন চোট। এই ইনজুরির কারণেই কাল দলের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি কাভানি। ফ্রান্সের বিপক্ষের তার শূন্যতাটা হাড়ে হাড়ে

টের পেয়েছে উরুগুয়ে। ফরাসিদের বিপক্ষে বেশ কয়েকটি আক্রমণ করলেও সেগুলোর একটির সুন্দর সমাপ্তি দিতে পারেননি উরুগুয়েনরা। লুইস সুয়ারেজ একাই যেন ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিঃসঙ্গ লড়াই করলেন। কিন্তু নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি তিনি। শেষ অবধি হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো তাকে। কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে উরুগুয়ে।

দুই ম্যাচের দুই হলুদ কার্ড নিষেধাজ্ঞার খড়্গ পড়িয়ে দিয়েছে মিকায়েল লাস্টিগকে। কোয়ার্টার ফাইনাল শুরুর আগে যেটা বড় ধাক্কা হয়েই এসেছে সুইডেনের কাছে। লাস্টিগের শূন্যতাটাই শেষ অবধি কাল হয়ে দাঁড়াল সুইডিশদের জন্য। ইংল্যান্ডের কাছেই থেমে গেল নীল-হলুদ শিবিরের পথ চলা। সামারা এরিনায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বমঞ্চ থেকে ছিটকে গেছে সুইডেন।

তারকা খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি ভুগিয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকেও। গেল শুক্রবার কাজান স্টেডিয়ামে নিষেধাজ্ঞার কারণে দর্শক সারিতে থাকতে হয়েছে ক্যাসেমিরোকে। ডিফেন্সিভ এই মিডফিল্ডারের শূন্যতাটাই সর্বনাশ করে দিল ব্রাজিলের। তার পরিবর্তিত হিসেবে ফার্নান্দিনহোকে শুরুর একাদশে মাঠে নামিয়েছিলেন সেলেকাও কোচ টিটে। সেই ফার্নান্দিনহোর গোলেই ১৩ মিনিটে বড় ধাক্কা। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলকে বিপদমুক্ত করতে গিয়ে বল জড়িয়ে দেন নিজেদের জালে। তার কাঁধে লেগে ফাটল ধরে ব্রাজিলের রক্ষণদুর্গে।

উপহারসূচক আত্মঘাতী গোলে লিড নেয় বেলজিয়াম। কাজান স্টেডিয়ামে ওঠে উৎসবের লাল ঢেউ। গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠা ব্রাজিল ৩১ মিনিটে হজম করে বসে দ্বিতীয় গোল! তাও আবার সেট পিস থেকে। কেভিন ডি ব্রুইনের দূরপাল্লার শটে চূর্ণ হয় ব্রাজিলের ডিফেন্স। ম্যাচটা কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছিল ওখানেই। ব্রাজিলও দুই গোলটা আর পুষিয়ে নিতে পারেনি।

"