তিন স্থানের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৪ জন নিহত

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

পুলিশ ও র‌্যাবেব সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি, গাইবান্ধা সাকোয়া ব্রিজ এলাকা এবং ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে চারজন নিহত হয়েছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট-

ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি এলাকায় গত শনিবার রাত ২টার দিকে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সাজ্জাদুর রহমান (২৫) ও আবদুর রাজ্জাক নামে দুজন নিহত হয়েছে। নিহত সাজ্জাদুর রহমান জেলা শহরের বাঘাযতিন সড়কের রহিম বক্সের ছেলে এবং আবদুর রাজ্জাক শহরতলীর উদয়পুর গ্রামের মিরাজ উদ্দীনের ছেলে। র‌্যাবের ভাষ্য এরা দুজনেই মাদক কারবারি ছিলেন। এ ঘটনায় দুই র‌্যাব সদস্য আহত হন।

র‌্যাব-৬, ঝিনাইদহের কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র এএসপি গোলাম মোর্শেদ জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা জেলা শহরের পবহাটি এলাকায় একটি বাড়িতে অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি টহল দল সেখানে অভিযান চালায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা মোটরসাইকেল যোগে পালানোর সময় র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। আধাঘণ্টা বন্দুকযুদ্ধ চলার পর ঘটনাস্থল থেকে সাজ্জাদুর রহমান ও আবদুর রাজ্জাককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করে। এ সময় গোলাগুলিতে র‌্যাবেরও দুই সদস্য আহত হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুটি ওয়ান শুটার গান, ৫৫ বোতল ফেনসিডিলও ১৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধায় শনিবার ভোররাতে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ি সড়কের সাকোয়া ব্রিজ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ছামছুল হক (৩৮) নামে ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে সে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য ও এক ডজন ডাকাতি মামলার আসামি। নিহত ছামছুল পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের সাকোয়া গ্রামের নওশিন আলী ওরফে নছিম উদ্দিন এর ছেলে। গাইবান্ধা সদর থানার ওসি খান মো. শাহারিয়ার জানান, গাইবান্ধা সদর ও সাদুল্যাপুর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে শনিবার ঢোলভাঙা বাজার এলাকা থেকে ছামছুল হককে গ্রেফতার করে। অস্ত্র উদ্ধার ও তার অন্য সঙ্গীদের ধরতে পুলিশ শনিবার ভোররাতে তার নিজ গ্রাম পলাশবাড়ি উপজেলার সাকোয়া গ্রামে অভিযানে চালায়। এ সময় ছামছুলকে ছিনিয়ে নিতে তার সঙ্গীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ছামছুল হক গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ময়মনসিংহ ও ঈশ্বরগঞ্জ : ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ফারুক মিয়া (৩০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে উপজেলার আঠারবাড়িতে বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফারুক আঠারবাড়ির সিদ্দিক মিয়ার ছেলে। ফারুকের বিরুদ্ধে আটটি মাদকসহ ১১টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে ঈশ্বরগঞ্জের আঠারবাড়ি তেলওয়ারী মোড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ভাগাভাগি করছে, এমন গোপন সংবাদে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি আহম্মেদ কবিরের নেতৃত্বে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ এলোপাতাড়ি গুলি করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। এক পর্যায়ে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে এলাকা তল্লাশিকালে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ফারুক মিয়াকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বন্দুকযুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানার এসআই সাফায়েত, এএসআই মো. খলিল, কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন আহত হন। তাদের উপজেলা হাসাপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে ১০০ পিস ইয়াবা, সাতটি গুলির খোসা, একটি রামদা, একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

"