কক্সবাজারে ঈদগাও বাজারে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

মহসীন শেখ, কক্সবাজার
ama ami

কক্সবাজারের সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ততম ঈদগাও বাজারে সরকারি রাজস্ব আদায়ের নামে লাখ লাখ টাকা লুটপাট চলছে। সরকার হারাচ্ছে প্রাপ্য রাজস্ব। জানা যায়, প্রশাসনের এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেট স্বাভাবিক নিলাম স্থগিত রেখে ফায়দা লুটছে।

বাজারের নিয়মিত ইজারার স্বার্থে সদ্য বিদায়ী কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেনের পরামর্শে ইজারাদার রাশেদুল হক চৌধুরী রিয়াদ নিজ উদ্যোগে রিট আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু এরপরও বাজারটি নিয়মিত ইজারা না দেওয়ায় একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে অন্যদিকে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে গত ১ জুলাই কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কাছে আবেদন করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের ওই আবেদন থেকে জানা যায়, গত ১৪২৪ বাংলা অর্থবছরে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে বাজারটি ইজারা পান রাশেদুল হক চৌধুরী রিয়াদ। ওই অর্থবছরের শেষ দিকে পুনরায় বাজারটি ইজারার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে ইজারাদার রাশেদুল হক চৌধুরী রিয়াদ ক্ষতিপূরণ চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট মামলা দায়ের করেন। ওই প্রেক্ষিতে বাজার নিলাম প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায় এবং এক মাসের মধ্যে ইজারাদারের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এতে প্রকাশিত ইজারা বিজ্ঞপ্তির মধ্যে শুধুমাত্র ঈদগাও বাজার ব্যতিত কক্সবাজার সদর উপজেলার সব বাজার চলতি বছরের ১৫ মার্চ ইজারা হয়ে যায়। ফলে ১ বৈশাখ থেকে ঈদগাঁও বাজারে খাস কালেকশান শুরু হয়। এই খাস কালেকশানে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জনবল সংকটের অজুহাতে বৈশাখ মাসের জন্য রফিক উদ্দিনকে সাড়ে আট লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। জৈষ্ঠ্য মাসের ইজারার জন্য গত ১৪ মে কক্সবাজার সদর উপজেলার সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে সন্ধ্যা ৭টায় উন্মুক্ত নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে সর্বোচ্চ ডাককারী রমজানুল আলম ১৭ লাখ টাকা, দ্বিতীয় রাশেদুল হক চৌধুরী রিয়াদ সাড়ে ১৫ লাখ টাকা, তৃতীয় আবদুর রাজ্জাক সাড়ে ১৪ লাখ টাকা দর দেন। এতে সর্বোচ্চ ডাককারী হিসেবে রমজানুল আলমকে জৈষ্ঠ্য মাসের জন্য খাস কালেকশানের সাব ইজারা দেওয়া হয়। ইজারা না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে ওই দর বহাল থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। ইতোমধ্যে উচ্চ আদালতে রিটকারি রাশেদুল হক রিয়াদ সদ্য বিদায়ী কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেনের পরামর্শে নিয়মিত ইজারায় যাওয়ার জন্য নিজ উদ্যোগে রিট প্রত্যাহার করে নেয়। পরবর্তীতে রিট খারিজের সার্টিফাইড কপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে জমা দিতে গেলে ইউএনও এসিল্যান্ডের সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ করলে এসিল্যান্ড বাজারের বিষয়ে আরো একটি রিট আছে বলে জানান। অথচ ওই রিটের সঙ্গে বাজার ইজারার কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি রিট আবেদনকারীর সঙ্গে বাজার ইজারার কোনো সম্পর্ক নেই, তিনি কোনো প্রকার সংক্ষুব্দ বা ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষও নন। এ অবস্থায় অতিগোপনে কাউকে না জানিয়ে সেই রমজানুল আলমকেই আষাঢ় মাসের জন্য বাজারটি ইজারা দেওয়া হয়। বর্তমানে রমজানুল আলম পরবর্তী ১০ মাসের জন্য ওই বাজারটি ইজারা নিয়েছেন বলে প্রচার করছেন। সবাইকে জানিয়ে বাজারটি সাব ইজারা দেওয়া হলে রাজস্ব আরো বৃদ্ধি পেত বলে উল্লেখ করা হয়। ভুক্তভোগীরা জানান, তারা ঈদগাঁও বাজারের খাস কালেকশানের সমস্ত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা, সরকারি টাকা আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত প্রকাশ্যে নিয়মিত বার্ষিক ইজারা দিয়ে সরকারি রাজস্ব আদায়ের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে আবেদন জানিয়েছেন।

"