মেধাবীদের পুরস্কার দিলেন প্রধানমন্ত্রী

দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে শিক্ষাই মূল হাতিয়ার

বিশ্বমানের চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দারিদ্র্যমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষাই মূল হাতিয়ার। তাই বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সব রকম পদক্ষেপ নিয়েছে। গতকাল রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ-২০১৮-এর সেরা মেধাবীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা। দেশের শিক্ষার্থীরা যাতে আগামী বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে, সরকার সে লক্ষ্যে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। আমাদের ছেলেমেয়েদের একটু সুযোগ করে দিলে তারা অত্যন্ত ভালো করে বলে মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের ছেলেমেয়েরা এত মেধাবী, আমি মনে করি বিশ্বে বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা সবচেয়ে বেশি মেধাবী।’

এদিকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৬ তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলীদের প্রতি বিশ্বমানের চলচ্চিত্র নির্মাণে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তার জন্য যা যা সহায়তা লাগবে তা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন তিনি।

মেধাবীদের অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ের ১২ জন এবং বিভাগীয় পর্যায়ের ১০৬ জনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় পর্যায়ের সেরা ১২ মেধাবী শিক্ষার্থী ৯ জুলাই পাঁচ দিনের শিক্ষা সফরে তুরস্ক যাবেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের আড়ালে থাকা মেধাবীদের খুঁজে বের করতে ও উৎসাহ দিতে ২০১৩ সাল থেকে আয়োজন করা হচ্ছে সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের তিনটি বিভাগে চারটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা ও জেলা পর্যায় পেরিয়ে এ বছর জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেওয়া ১০৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে সকালে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাখা বক্তব্যে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে চাই। আর বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করার জন্য শিক্ষাই মূল হাতিয়ার বলে আমি বিশ্বাস করি। যেটা জাতির পিতা সব সময় বলতেন যে, শিক্ষিত করে ছেড়ে দাও, নিজের পায়ে দাঁড়াবে এবং দেশকেও এগিয়ে নিয়ে যাবে। সে কারণে আমরা সারা বাংলাদেশে এখন যেমন প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি সরকারিভাবে, সরকারের উদ্যোগে, বহুমুখী বিশ্ববিদ্যালয় আমরা করে দিচ্ছি।’

আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতেই সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সরকার বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বলেও জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমাদের ছেলেমেয়েদের আমরা সেভাবেই গড়ে তুলতে চাই যেন আগামী দিনের বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিযোগিতায় যেন আমাদের ছেলেমেয়েরা এগিয়ে থাকে। সেদিকে লক্ষ রেখেই আমরা আমাদের সব রকম ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ এ সময় আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন, বিজ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার নিজের স্বপ্নের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

সবাইকে মন দিয়ে পড়াশোনা করার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষাটাই সবচেয়ে বড় সম্পদ। আমি এবং রেহানা আমাদের ছেলেমেয়েদের একটা কথাই বলি, একটাই সম্পদ সেটা হচ্ছে শিক্ষা। তোমরা লেখাপড়া শিখবে, মানুষের মতো মানুষ হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী, শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন মাহিম মুনতাসির ও সিরাতুম মুস্তাকিম শ্রাবণী।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৬ প্রদান অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে মঞ্চে ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম ও তথ্য মন্ত্রণালয়-বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ। পুরস্কার দেওয়ার পর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পুরস্কার পেলেন যারা : অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য আজীবন সম্মননা দেওয়া হয়েছে ফরিদা আক্তার ববিতা ও আকবর হোসেন পাঠান ফারুককে।

সেরা চলচ্চিত্র ‘অজ্ঞাতনামা’, সেরা পরিচালক অমিতাভ রেজা, সেরা অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী এবং যৌথভাবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা ও কুসুম শিকদার। শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ঘ্রাণ’ এবং শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে ‘জন্মসাথী’।

শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রাভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন আলীরাজ ও ফজলুর রহমান বাবু।

শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রাভিনেত্রী তানিয়া আহমেদ, শ্রেষ্ঠ খল-অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম, শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী আনুম রহমান খান।

শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক ইমন সাহা, শ্রেষ্ঠ গায়ক ওয়াকিল আহমেদ, শ্রেষ্ঠ গায়িকা মেহের আফরোজ শাওন, শ্রেষ্ঠ সুরকার ইমন সাহা। শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার তৌকীর আহমেদ, শ্রেষ্ঠ গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার, শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা রুবাইয়াত হোসেন, শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার অনম বিশ্বাস ও গাউসুল আলম।

শ্রেষ্ঠ সম্পাদক ইকবাল আহসানুল কবির, শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক উত্তম গুহ, শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক রাশেদ জামান, শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক রিপন নাথ। শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জার পুরস্কার উঠেছে সাত্তার ও ফারজানা সানের হাতে আর শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যানের পুরস্কার পেয়েছেন মানিক।

"