মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ঘোষণা

কোটা সংস্কার আন্দোলনের ষড়যন্ত্র রুখতে হবে

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ama ami

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা। গতকাল শনিবার শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ ব্যানারে আয়োজিত এক সমাবেশে তারা এ ঘোষণা দেন। সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা বলেছেন, ‘সরকার যখন সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে একটি যৌক্তিক পরিণতির দিকে এগোচ্ছে, তখন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে স্বাধীনতাবিরোধীরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছে।’

তারা আরো বলেন, ‘সরকার আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেওয়ায় দেশবিরোধী চক্রান্তকারীদের গরম ভাতে ছাই পড়েছে। তাই তারা কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে সাধারণ ছাত্র নামধারী কিছু দিকভ্রান্ত যুবককে দিয়ে দেশে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। তারা ‘কোটা সংস্কার চাই’ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটুক্তি ও বাজে মন্তব্য করছে এবং প্রধানমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ আয়োজিত এই সমাবেশ থেকে কোটা সঠিক বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিশন গঠনসহ ৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে। তাদের দাবিগুলো হলোÑ জাতির পিতা, মুক্তিযোদ্ধা ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তিকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইন করতে হবে। ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রেখে তা বাস্তবায়নে কমিশন গঠন করে প্রিলিমিনারি থেকে কোটা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চলমান সব নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখাসহ সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কোটার শূন্যপদ সংরক্ষণ করে বিশেষ নিয়োগের মাধ্যমে তা পূরণ করতে হবে। ১৯৭১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় শূন্যপদগুলোতে চলতি বছরেই নিয়োগ দিতে হবে। মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন প্রবাসী সরকারের প্রথম সেনাবাহিনী, তাই তাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে পেনশন, বোনাস, রেশনসহ সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বাধীনতাবিরোধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্তসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের উত্তরসূরিদের সব চাকরিতে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে এবং স্বাধীনতাবিরোধী সংগঠন জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে হবে। ঢাবি ভিসির বাসভবনে হামলাসহ দেশব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী স্বঘোষিত রাজাকারদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ অন্য সবার জন্য চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা তুলে দিতে হবে।

সংগঠনের সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম জামাল উদ্দিন, শহীদ সংসদ সদস্য নুরুল হক হাওলাদারের কন্যা জোবায়দা হক অজন্তা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান জাতীয় সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মো. আজিজুল হাসান (এমরান), বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ।

"