‘তারকাশূন্য’ বিশ্বকাপ

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

আমির হোসেন

বিশ্বকাপ শুরুর আগে আলোচনায় ছিলেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও নেইমার দ্য সিলভা জুনিয়র। পেশাদার ফুটবলে তারা বরাবরই আলোচনায় থাকেন। ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে তারা থাকেন। শেষপর্যন্ত রোনালদো ও মেসির মধ্যে একজন জিতে নেন। সবশেষ ১০টি ব্যালন ডি’অর মেসি ও রোনালদো ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। বিশ্বকাপেও তারা আলো ছড়াবেন এমনটাই প্রত্যাশা ছিল ফুটবলপ্রেমীদের। তাদের পারফরম্যান্সে ভর করে জাতীয় দল বিশ্বকাপের অনেকটা পথ পাড়ি দিবে এটা ছিল অনুমেয়। কিন্তু কখনো কখনো অনুমান মিথ্যে প্রমাণিত হয়। প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির যে সম্মিলন, সেটা বড় বেমানান লাগে। যেমনটা হয়েছে মেসি, রোনালদো ও নেইমারের ক্ষেত্রে। তাদের জাতীয় দলের ক্ষেত্রে।

 

লিওনেল মেসি এবারের বিশ্বকাপে নিজের ছাঁয়া হয়েই ছিলেন। ৩৬০ মিনিট খেলে গোল করেছেন মাত্র ১টি। অ্যাসিস্ট ছিল ২টিতে। শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জিতে শেষ ষোলোতে গেলেও তাদের যাত্রাটা আর দীর্ঘায়িত হয়নি। শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের বিপক্ষে তারা ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয়। ২০১৮ বিশ্বকাপের যাত্রা থেমে যায় শেষ ষোলোতেই। লিওনেল মেসি ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল না পাওয়ায় ৭৬০ মিনিট নকআউট পর্বের ম্যাচে গোলশূন্য থাকার রেকর্ড গড়েন। এমন রেকর্ড তার মতো একজন খেলোয়াড়ের জন্য সত্যিই বেমানান।

মেসির বিদায়ের পর প্রত্যাশার চাপ বাড়ে রোনালদোর ওপর, পর্তুগালের ওপর। ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা ছিল এক রোনালদোতে ভর করে পর্তুগাল হয়তো আরো অনেকটা পথ পাড়ি দিবে। অবশ্য রোনালদো সমর্থকদের প্রত্যাশার পারদ উপরে তুলেছিলেন। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক করে ১ পয়েন্ট ছিনিয়ে নেন। পরের ম্যাচে মরোক্কোর বিপক্ষে গোল করে দুই ম্যাচেই ৪ গোল করে আলোচনায় উঠে আসেন। ইরানের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করে বিশ্বকাপে নিজের গোলের ট্যালিকে বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। তারপরও গ্রুপ রানার্স-আপ হয়ে শেষ ষোলোতে যায় পর্তুগীজরা। প্রত্যাশা ছিল শেষ ষোলোতে উরুগুয়ের বিপক্ষে রোনালদো টেনে তুলবেন তার দলকে। কিন্তু রোনালদোর মঞ্চে নায়ক বনে যান কাভানি। জোড়া গোল করে তিনি বিদায় করে দেন রোনালদোকে, পর্তুগালকে। অবশ্য এই ম্যাচে রোনালদোর আচরণ মুগ্ধ করেছে ভক্ত-সমর্থক ও ফুটবল সমালোচকদের। চার ম্যাচে ৪ গোল করে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যান রোনালদো।

 

একই দিনে মেসি-রোনালদোর বিদায় ফুটবলপ্রেমীরা মুষড়ে পড়েন। হতাশ হন। তারপরও তাদের প্রত্যাশা টিকে ছিল নেইমারকে ঘিরে। ম্যাচ বাই ম্যাচ ব্রাজিলিয়ান তারকা উন্নতি করছিলেন। নিজে গোল করার পাশাপাশি গোলে সহায়তাও করছিলেন। সবার প্রত্যাশা ছিল নেইমার-কুতিনহো-ফিরমিনহোতে ভর করে অন্তত ব্রাজিল শেষ ম্যাচ পর্যন্ত যেতে পারবে। কিন্তু তাদের যাত্রাটাও দীর্ঘায়িত হলো না। কোয়ার্টার ফাইনালেই থেমে গেল তাদের হেক্সা মিশন। বেলজিয়ামের বিপক্ষে আত্মঘাতী গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে মেসি-রোনালদোর পর বিদায় নেন নেইমারও। পাঁচ ম্যাচে ৪৫০ মিনিট খেলে তিনি ২ গোল করেন। অ্যাসিস্ট করেন দুটিতে। ২৭ বার আক্রমণ চালান প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে। তার মধ্যে ১৩টি ছিল অন টার্গেটে। পেনাল্টি এরিয়ায় তিনি ২৩ বার ড্রিবলিং করেছেন। নেইমার তারকা ফুটবলার হওয়ায় প্রতিপক্ষের টার্গেটের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। সেটার প্রমাণ মেলে তাকে ফাউল করার সংখ্যায়। এই বিশ্বকাপে ২৬ বার নেইমারকে ফাউল করা হয়েছে। বিদায় নিলেও জানান দিয়ে গেছেন তিনি যে বিশ্বের অন্যতম সেরা একজন ফুটবলার।

তবে এই জানান দেওয়াটায় তো আর সমর্থকরা সন্তুষ্ট হতে পারেননি। কারণ এবারের বিশ্বকাপে মেসি-নেইমার ও রোনালদোকে নিয়ে সমর্থক ও ফুটবলপ্রেমীদের যে প্রত্যাশা ছিল তার সঙ্গে প্রাপ্তির যে মিলন ঘটেনি।

"