বেপরোয়া মোটরসাইকেল

প্রকাশ : ২২ জুন ২০১৮, ০০:০০

শরীফুল রুকন, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম নগরের জামালখান মোড় এলাকা। রাতের সড়কে গগনবিদারী হর্ন বাজিয়ে এঁকেবেঁকে চকবাজারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে একঝাঁক মোটরসাইকেলে এক দল বখে যাওয়া তরুণের মহড়া। গত মঙ্গলবার রাতে দেখা গেল, রাস্তার দুই পাশের পথচারীরা তখন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ তীব্র ক্ষোভ ঝাড?লেন মোটরসাইকেলে আরোহীদের বিরুদ্ধে। ততক্ষণে মোটরসাইকেল আরোহীরা চলে গেছেন। এভাবেই বন্দর নগরে মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে মোটরসাইকেল মহড়া। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া গতিতে চলছেন অনেক মোটরসাইকেল চালক। অনেক ক্ষেত্রে তারা সিগন্যাল মানছেন না। কার আগে কে যাবেন, সে চেষ্টা তো থাকছেই। আর কিছু কিছু সড়কের ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালানো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে প্রায়ই ঘটছে নানা ধরনের দুর্ঘটনা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিপজ্জনক বাহন হিসেবে মোটরসাইকেলের পরিচিতি থাকলেও চট্টগ্রামের মতো ব্যস্ত শহরে চলাচলের জন্য অনেকেই এটিকে বেছে নিচ্ছেন। যানজট এড়াতে মোটরসাইকেলের দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই। এ ছাড়া মোবাইল অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল পরিবহন সেবা চালু হওয়ায় অনেকেই তা কিনেছেন বাড়তি লাভের আশায়।

সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে। এ বাহনটি দিন দিন যেমন জনপ্রিয় হচ্ছে, তেমনি মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে বেপরোয়া আচরণের অভিযোগও বাড়ছে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল আরোহীদের দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানও ভারী হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম বলেন, কী সংখ্যক মানুষ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছেন; সে বিষয়ে আলাদা হিসাব রাখা হয় না পুলিশের পক্ষ থেকে। তবে প্রতিদিনই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়ে একাধিক মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের বেশির ভাগই তরুণ।

এদিকে, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায় ১২০টি মোটরসাইকেল যাচাই-বাছাই করে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। এর মধ্যে ৩০টির বিরুদ্ধে মোটরযান আইনে মামলা হয়। জব্দ করা হয় তিনটি মোটরসাইকেল। বাকিদের অনিয়ন্ত্রিত বাইক না চালানোর শর্তে সতর্ক করে ছেড়ে দেয় পুলিশ। গতকাল বুধবারও কোতোয়ালি থানা এলাকায় ১১০টি মোটরসাইকেল যাচাই-বাছাই করে ২৫টির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অভিযানে পাঁচটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার কোতোয়ালী থানা এলাকায় ১৩০টি মোটরসাইকেল আটক করে যাচাই করা হয়। এরমধ্যে ২৬টির বিরুদ্ধে মামলা ও চারটি মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, গগনবিদারী হর্ন বাজিয়ে, সাপের মতো এঁকেবেঁকে, মরণ গতিতে বাইক চালিয়ে দিন-রাত দাপিয়ে বেড়ান অনেকেই। তাদের এমন ‘হিরোইজম’ বাহবাও পায় অনেকের। অনেকেই আবার বিরক্তও হন। এভাবে হিরোইজম দেখাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অনেক মোটরসাইকেল চালক নিহত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, অনেক মোটরসাইকেল আরোহী ফুটপাতের ওপর দিয়ে? মোটরসাইকেল চালানো তাদের অধিকার বলে মনে করেন। তাছাড?া রাস্তার সিগন্যালে অপেক্ষার ধৈর্যও তাদের থাকে না। বেপরোয়া মোটরবাইক চালানোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, অনেকেই আছেন ইচ্ছেমতো মোটরসাইকেল চালান। কোনো নিয়ম মানতে চান না। এতে তারা দুর্ঘটনায়ও পড়ছেন। এ ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল চালকদের সচেতন হওয়া দরকার। সচেতনতা সৃষ্টি করতে না পারলে পুলিশের একার পক্ষে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে না।

"