প্রথম কলাম

শুধু পুলিশের বাড়িতে হানা দেওয়া চোর

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অন্যান্য পেশার মতো চুরি বিদ্যাতেও দক্ষতা বুদ্ধি এবং কৌশল দরকার। অধ্যাপক, ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ারের মতো এই বিদ্যাতেও দক্ষতা না থাকলে উন্নতি করা কঠিন। এই সত্যটা খুব ভালো করে বুঝেছিল ভারতের মুম্বাইয়ের ২০ বছর বয়সী কমলজিৎ সিং। পেশাদার চোর। যার তার বাড়িতে চুরি করেন না। তিনি চুরি করেন শুধু পুলিশের বাড়িতে। আর এ কারণেই তিনি এখন সংবাদের শিরোনামে। তিনি ভেবেছিলেন, পুলিশ কর্মীদের বাড়িতে কোনো চোর ঢোকার সাহস হবে না বলে সেখানে নিরাপত্তা তত আঁটোসাঁটো হবে না। সেই ভরসাতেই সে গত বছর কয়েকের মধ্যে হানা দিয়েছিল বেশ কয়েকটি পুলিশ বাড়িতে। কয়েক দিন আগে কালীচৌকি এলাকার পুলিশ কর্মীদের কোয়ার্টারে ঢুকেছিলেন তিনি।

কালীচৌকি থানার ইন্সপেক্টর দিলীপ উগালে বলেন, ‘ভোরের দিকে কনস্টেবল বিজয় বানের কোয়ার্টারে ঢুকে ৬০ গ্রাম সোনা আর ২৮০০ টাকা নগদ চুরি করে। তারপরে একতলায় এক নারী কনস্টেবলের কোয়ার্টারের দরজা ভেঙে ঢুকেছিল। পাশের ফ্ল্যাট থেকে যাতে কেউ বেরুতে না পারে সেজন্য দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে তিনতলার বাসিন্দা আরেক কনস্টেবল যশবন্ত রসমের নজরে পড়ে যায়।’

রসম সতর্ক করে দেওয়ায় তিনজন পুলিশ কর্মী তাকে ফলো করতে থাকেন। টের পেয়ে দৌড়ে পালাতে শুরু করে কমলজিৎ। কিন্তু বেশ কিছুটা দূরে কটন গ্রিন রেলস্টেশনের কাছে গিয়ে পাকড়াও করা হয় তাকে।

মুম্বাইয়ের ওয়াদলা আর বাইকুল্লা এলাকার বেশ কয়েকটি পুলিশ বাড়িতে আগেও হানা দিয়েছিল কমলজিৎ সিং। এক পুলিশ কনস্টেবলের সার্ভিস রিভলবার আর ৩০ রাউন্ড গুলি চুরির অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় গত বছর গ্রেফতার হয়েছিলো কমলজিৎ। পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারও শুরু করেছিল পুলিশের ঘরে চুরি করতে।

উগালে বলছিলেন, ‘ও হয়তো ভেবেছিল আমাদের কোয়ার্টারে অন্য কোনো চোর ঢুকতে সাহস পাবে না। তাই অন্য আবাসনের মতো কড়া নিরাপত্তা থাকে না আমাদের কোয়ার্টারে। এবারেও পার পেয়ে যেত, তিনজন কনস্টেবল সন্দেহের বশে তার পিছু না নিলে।’

বুকের পাটা আছে বটে ছেলেটার, যে পুলিশের ঘরেই চুরি করে, সহাস্য মন্তব্য উগালের।

"