আজ মাগুরছড়া বিপর্যয় দিবস

২১ বছরেও আদায় হয়নি ক্ষতিপূরণ

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৮, ০০:০০

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মাগুরছড়া বিপর্যয় দিবস আজ। ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মাগুরছড়া গ্যাসকূপে বিস্ফোরণ ঘটে। বিপর্যয়ের ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও চুক্তি মোতাবেক দায়ী মার্কিন কোম্পানিটি কাছে থেকে ক্ষতিপূরণ আজও আদায় করা সম্ভব হয়নি।

মাগুরছড়া গ্যাসকূপ বিস্ফোরণের মুহূর্তে আগুনের লেলিহান শিখা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। নিমিষেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের গাছ পালা জীবজন্তুসহ আশপাশের বিস্তৃর্ণ এলাকা। এ অগ্নিকান্ডের ক্ষয়ক্ষতি আদায়ে সবসময় সোচ্চার ছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন। তারা বলছেন, এখনো সরকার চাইলে আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায় করা সম্ভব। কিন্তু কোনো সরকারই এই উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন সংগঠনগুলোর নেতারা।

গ্যাস কোম্পানি অক্সিডেন্টালের দায়িত্বে থাকা ওই গ্যাস ক্ষেত্রের বিস্ফোরণের ঘটনায় চা বাগান, বনাঞ্চল, বিদ্যুৎলাইন, রেলপথ, গ্যাস পাইপলাইন, গ্যাসকূপ, পরিবেশ, প্রতিবেশ, ভূমিস্থ পানিসম্পদ, রাস্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুড়ে ছাই হয়ে যায় অমূল্য বনজসম্পদ। বহু বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হয়।

পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষক সিতেশ রঞ্জন দেব বলেন, ‘এই অগ্নিকান্ডে বন ও জীববৈচিত্র্যের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনোও কাটিয়ে উঠা যায়নি। আমরা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন প্রাণ অবমুক্ত করে আসছি। যারা ক্ষতিপূরণ আদায় করবে তারা যদি নীরব ভূমিকা পালন করে তা হলে আমরা কী করব?’

মাগুরছড়া পুঞ্জির মন্ত্রী জিডিশন প্রধান সূচিয়াং বলেন, ‘আমরা এই পুঞ্জিতে বসবাসকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমাদের ৫০-৬০ একর জায়গা পুড়ে গেছে। এ ছাড়া আরো অনেক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৬-৭ মাস কোনো চাষাবাদ করতে পারিনি। এই ক্ষতিপূরণ আমরা পাইনি।’

এই বিস্ফোরণে পুড়ে যায় ভূগর্ভস্থ উত্তোলনযোগ্য ২৪৫.৮৬ বিসিএফ গ্যাস। যার মূল্য প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। অক্সিডেন্টাল যৎসামান্য ক্ষতিপূরণ দিয়ে ইউনিকল নামের অন্য একটি কোম্পানির কাছে ফিল্ড বিক্রি করে বাংলাদেশ থেকে চলে যায়। পরবর্তীতে ইউনিকলও সেভরন নামের একটি মার্কিন কোম্পানির হাতে গ্যাসকূপগুলো বিক্রি করে এদেশ থেকে কেটে পড়ে।

দেশের সম্পদ বিনষ্টকারী মার্কিন কোম্পানির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১৪ হাজার কোটি টাকা বর্তমান সরকার আদায় করবে এমনটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর।

"