নরসিংদীতে টেঁটা সমর্পণ যুদ্ধ না করার অঙ্গীকার

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

 

নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদী সদর উপজেলার চর নজরপুরে বিবদমান গ্রুপগুলো অঙ্গীকার করেছে, তারা আর কোনোদিন টেঁটাযুদ্ধ করবেন না। এরপর তারা নিজেদের কাছে রক্ষিত টেঁটা জমা দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার নজরপুর ইউনিয়নের অলিপুরা বাজারে নরসিংদী পুলিশ সুপার ও পৌর মেয়রের উদ্যোগে আয়োজিত এক মিলন মেলায় টেঁটা সমর্পণ করা হয়।

ওই মিলন মেলার প্রধান অতিথি ছিলেন নরসিংদীর পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন নরসিংদী পৌরসভার মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল। আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহরিয়ার আলম, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সৈয়দুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান আজিম প্রমুখ। মিলন মেলা ও আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নজরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাদল সরকার ও সঞ্চালনা করেন নরসিংদী সদর মডেল থানার অপারেশন অফিসার মোজাফফর হোসেন।

এ সময় প্রায় হাজার খানেক ধারালো টেঁটা পুলিশ সুপারের কাছে সমর্পণ করা হয়। মোশারফ, আরমান ফকির, কামাল মেম্বর, কুদ্দুস মেম্বর, জলিল ফকির, শাহজাহান মনা, রমজান মেম্বর, সামসু মেম্বর ও মনা মিয়া টেঁটাযুদ্ধ সৃষ্টিকারী এই নেতারা সদলবলে তাদের কাছে রক্ষিত টেঁটা এক জায়গায় জড়ো করেন। বিপুল সংখ্যক লোকের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের সর্দারগণ আর কখনো টেঁটাযুদ্ধ করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।

পৌর মেয়র কামরুজ্জামন কামরুল বলেন, ‘মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ঝগড়া বিবাদে মত্ত রেখে নিজেদের স্বার্থ আদায় করাই ইন্ধনকারীর কাজ। টেঁটাযুদ্ধে অনেকে পরিবারিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টেঁটাযুদ্ধে হতাহতরা কোনো মায়ের সন্তান, স্ত্রীর স্বামী, সন্তানের পিতা। তাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে এই মধ্যযুগীয় নিষ্ঠুরতা বন্ধ করতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘নরসিংদী জেলাকে কলঙ্কিত করে তুলেছে এই টেঁটাযুদ্ধ। যারা টেঁটাযুদ্ধে ইন্ধন কিংবা অংশগ্রহণ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘আমি আগেই জেনেছি এই টেঁটাযুদ্ধের কথা। এটা একটি কলঙ্কিত অধ্যায়। সকল ভেদাভেদ ভুলে আপনারা মিলেমিশে শান্তিতে থাকবেন সেটাই প্রত্যাশা করি। আপনারা শান্তিপূর্ণ অবস্থানের জন্য সকল টেঁটা জমা দিয়েছেন। এজন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই মিলন মেলার পরও যদি কেউ টেঁটাযুদ্ধে লিপ্ত হন। তবে তাকে শক্ত হাতেই মোকাবিলা করা হবে। যেখানে দেশ উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে সেখানে এসব নিষ্ঠুরতা চলতে দেওয়া হবে না। জেলা পুলিশ অত্যাধুনিক ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে দূর থেকেই দেখতে পারবে টেঁটাযুদ্ধে কারা অংশগ্রহণ করছে। সে অনুযায়ী, জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

"