চাঁদপুরে নারী অধ্যক্ষ ‘খুন’

বাবাকে খুনি আখ্যায়িত করে বিচার দাবি সন্তানদের

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৮, ০০:০০

চাঁদপুর প্রতিনিধি

চাঁদপুরের অধ্যক্ষ শাহীন সুলতানা ফেন্সি হত্যাকা-ের ন্যায় বিচার নিয়ে শঙ্কিত তার মেয়ে ও স্বজনরা। মেয়েদের দাবি, তাদের মায়ের হত্যাকা-ে বাবা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বারের সাবেক সভাপতি

অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম জড়িত এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী জুলেখা বেগম এতে কুমন্ত্রনা দিয়েছেন। অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামের কন্যা সন্তানরা গতকাল রোববার চাঁদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহতের ছোট মেয়ে ডা: ফাতিমা শাহীন পুষ্প বলেন, গত ৪ জুন সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে আমার মা অধ্যক্ষ শাহীন সুলতানা ফেন্সি তার নিজ বাসায় আমার বাবা অ্যাডভোকেট জহির ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী জুলেখা বেগমের যোগসাজসে খুন হন।

তিনি বলেন, আমার বাবা জহিরুল ইসলাম ৪ বছর আগে জুলেখা বেগম নামে দুই সন্তানের জননী এক নারীকে বিয়ে করেন। শুনেছি ওই মহিলার সঙ্গে বিয়ে আমার বোনেরা এবং মা কখনোই মেনে নেয়নি। যা নিয়ে আমার মায়ের সঙ্গে আমার বাবার প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো এবং বাবা মাকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। আমার বাবা প্রকাশ্যেই আমার মাকে জীবননাশের হুমকি দিতেন। এছাড়া তার দ্বিতীয় স্ত্রীও মোবাইলে আমার মাকে হত্যার হুমকি দিতেন। যা আমারা বোনেরা শুনেছি এবং দেখেছি।

তিনি আরও বলেন, গত ৪ জুন সন্ধ্যায় আমার বাবা তার দ্বিতীয় স্ত্রীর কথামতো আমার মাকে খুন করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেন। খুনের ঘটনার আলামত নষ্ট এবং আগে-পরের নানা ঘটনাই প্রমাণ করে আমার বাবা অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামই আমার মায়ের খুনি। এ সময় তিনি ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কাবোধ করে বলেন, মানুষ যখন চরম বিপদের সম্মুখীন হয় এবং যে কোনো বিষয়ে ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে শঙ্কাবোধ করে তখনই ওই বিপদগ্রস্ত মানুষগুলো মিডিয়ার শরণাপন্ন হয়।

তিনি দুঃখ করে বলেন, আমার মা একজন অধ্যক্ষ, একজন সরকার দলীয় নেত্রী। কিন্তু কোন অজ্ঞাত কারণে চাঁদপুরের লোকজন চুপ করে আছেন।

নিহতের বড় ভাই মামলার বাদি ফোরকান খান বলেন, এখন পর্যন্ত কোন দিকের চাপ দেখিনি। পুলিশ আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। তদন্ত কাজও ভালোভাবেই চলছে।

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মির্জা জাকির, নিহতের বড় ভাই মো: নঈমুদ্দিন খান, মো: নাছির উদ্দিন খান, ছোট ভাই মো: ফোরকান উদ্দিন খান, বড় জামাতা আরিফুর খান, বড় মেয়ে ফারজানা শাহীন পদ্ম, ছোট মেয়ে ফাতেমা শাহীন পুষ্প, চাচাতো ভাই মানিক খান, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী খাদিজা আক্তার বেবি, বড় ভাইয়ের স্ত্রী শামসুন্নাহার আক্তার, বড় ভাইয়ের ছেলে ইফতেখার আহমেদ ও বড় ভাইয়ের মেয়ে রোবেনা সুলতানা।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুন চাঁদপুর শহরের পাকা মসজিদ এলাকার নিজ বাস ভবনের একটি কক্ষ থেকে গল্লাক ডিগ্রি আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ ও মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য শাহীন সুলতানা ফেন্সির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফোরকান খান অ্যাডভোকেট জহির ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেছেন। এরপর অ্যাডভোকেট জহির ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী জুলেখাকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে। আদালত অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং জুলেখাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। জেলার পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার জানান, আইনজীবী জহিরের প্রেসার বেশি হওয়ার চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে রিমান্ডে নেওয়া যাচ্ছে না।

"