সিলেট সিটি নির্বাচন

ইসলামী দলের ভোট নিয়ে নতুন সমীকরণ

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৮, ০০:০০

মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত, সিলেট

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এর আগে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের জয়ের পেছনে অনেকটাই কাজ করেছিল ইসলামপন্থি দলের ভোট। কিন্তু এবার জামায়াত স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং খেলাফত মজলিস দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনে অনঢ় রয়েছেন। এর ফলে নির্বাচনে বিজয়ের আর আগের সমীকরণ থাকছে না। তবে বিএনপির প্রার্থীর আশা, জোটের শরীক হিসেবে এবারো তাকেই সমর্থন দেবে। তবে এ ব্যাপারে কোনো মতামত নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী।

দলীয় সূত্র জানায়, মেয়র পদে নির্বাচনে লড়বেন সাবেক শিবির নেতা নগর জামায়েতের আমীর অ্যাড: এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। আর খেলাফত মজলিস থেকে নির্বাচন করবেন নগর খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবদুল্লাহ আল মামুন। এছাড়াও দুই জোটের বাইরের বাম রাজনৈতিক দলগুলো এবার প্রার্থী দেবে বলে জানা গেছে। ওই দুই দলের শীর্ষ নেতারা বলছেন তারা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। কেন্দ্র থেকে নির্দেশ আসলেই তারা প্রার্থী ঘোষণা করবেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত ইসলামী দলগুলোর ভোট সিটি নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে।

জানা যায়, আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এবার মনোনয়ন চাইবেন। বিগত তিনটি নির্বাচনে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান দলীয় সমর্থন নিয়ে এককভাবে নির্বাচন করেছেন। কিন্তু এবার দলটির আরো দুই নেতা মনোনয়ন চাইবেন। মনোনয়ন দৌড়ে কামরানের পাশাপাশি রয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, নগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ। তবে শীর্ষ নেতারা বলছেন দল যাকে মনোনয়ন দেবে তারা তার পক্ষে কাজ করবেন। বিএনপি থেকে চারজন প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমান মেয়র আরিফুল হকের ছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশী নগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাবেক ছাত্রনেতা নগর সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, বিএনপি নেতা কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।

এদিকে দলে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং জামায়েত ও ইসলামীক সমমনা দলগুলো এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ায় ভোট হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা করছেন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরা। অতীতের সিটি নির্বাচন গুলোতে এসব পেয়েই জয় পেয়েছিলেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা।

এদিকে, বিএনপি সমর্থন আদায়ে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। তবে আলোচনার বিষয়টি স্বীকার করতে নারাজ স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতারা। জামায়াতের নেতারা বলছেন, গত সিটি নির্বাচনে তারা বিএনপিকে ছাড় দিয়েছিলেন। অতীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কামরানও তাদের ভোট পেয়েছেন। এবার তারা কোনো দলকেই ছাড় দিতে রাজি নন।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যাপারে আমার মতামত নেই। আমি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করব। আওয়ামী লীগ উন্নয়নে বিশ্বাসী। নগরবাসী অবশ্যই নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করবেন।

নগর জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দল থেকে আমাকে নির্বাচন করতে বলা হয়েছে। তাই আমি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করি নগরবাসী আমাকে বিজয়ী করবেন। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, জামায়াত ও খেলাফত মজলিস আমাদের জোটের শরিক দল। গত নির্বাচনেও তারা বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আমাকে সমর্থন দিয়েছিল। এবারও জোটের স্বার্থে তারা বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন করবে বলে আমি আশাবাদী। সিলেট জেলা বাসদের সমন্বয়ক আবু জাফর বলেন, ‘আওয়ামী লীগ-বিএনপি বিগত পনের বছরেও নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। দুই দলের প্রার্থীরাই ইশতেহারের ৮০ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই এবার দুই জোটের বাহিরের বাম দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে মেয়র প্রার্থী দেব।

"