পাবনার যমুনায় বালু উত্তোলন বাঁধে ধসের আশঙ্কা

বালুদস্যুরা প্রশাসনিক নিষেধ মানছেন না

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৮, ০০:০০

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার বেড়ার পেঁচাকোলায় যমুনা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ধসে যাওয়া অংশের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। এদিকে, সরবারি নিষেধ অমান্য করে বালুদস্যুরা এই প্রতিরক্ষা বাঁধের কোল ঘেষে ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন করছে। এতে বাঁধে আবারও ধস নামার আশঙ্কায় নদী পাড়ের মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এদিকে, বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগ এই বালু দস্যুদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বেড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা হয়েছে। এরপরও থামছে না বলু উত্তোলনকারীদের বেআইনি কাজ।

জানা গেছে, গত বছর বন্যা শেষে পেঁচাকোলায় যমুনা নদী ভাঙন প্রতিরক্ষা বাঁধের প্রায় ৫০ ফুট নদীতে বিলীন হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ভেঙে যাওয়া অংশ সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে ভাঙন পরিধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫০ ফুট। এদিকে, বাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশ জরুরিভিত্তিতে সংস্কার কাজের জন্য প্রায় ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সম্পতি এ সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। এই কাজে মোট ১৭ হাজার বালিভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় তৎকালীন জোট সরকার আমলে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনা-মেঘনা রিভার ইরোশন মিটিগেশন প্রকল্পের আওতায় যমুনা নদীর সবচেয়ে বেশি ভাঙন প্রবণ পাবনার বেড়া উপজেলার মোহনগঞ্জ থেকে কৈটোলা পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার এলাকাব্যাপী স্থায়ী ভাঙন রোধ প্রকল্পের কাজ ২০০৪ সালে শুরু হয়ে ২০০৮ সালে শেষ হয়। প্রায় ৭ কিলোমিটার যমুনা নদীর পশ্চিম পাড়ে (ডানতীর) প্রতিরক্ষা বাঁধ তৈরি করা হয়। প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের ফলে মোহনগঞ্জ থেকে রাকশা পর্যন্ত যমুনা নদীর ভাঙন বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে, অবাধে বালু উত্তোলন করায় প্রতিরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে ধসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেছেন, ফারজানা খানম বেড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার থাকাকালীন তার তৎপরতায় যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ ছিল। তিনি মাস দুই আগে অন্যত্র বদলী হয়ে যাওয়ায় ক্ষমতাসীন দলের কাউন্সিলর সুফিয়ানগংরা আবারো মোহনগঞ্জ ও মালদাহপাড়া এলাকায় যমুনা নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করছে। বালু উত্তোলনকারীরা ক্ষমতাসীন দলের লোক হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। ওই এলাকায় প্রতিদিন ৫-৬টি বোমামেশিনের সাহায্যে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করে নৌকায় পাড়ে আনা হচ্ছে। মোহনগঞ্জ, বেড়া ডাকবাংলা ও বৃশালিখায় বালু বেচা-কেনার হাট বসেছে। সেখান থেকে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক বালু জেলার বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। বিনা পুঁজির এ ব্যবসা করে সংশ্লিষ্টরা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এ ব্যাপারে কাউন্সিলর সুফিয়ানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে এমনকি এ ব্যাপারে তাকে আর ফোন না দেওয়ার জন্য বলেন।

বালুকাটা প্রতিরোধ কমিটি ও নাকালিয়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, বালুদস্যুদের কারণে ইতোমধ্যে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে নাকালিয়া বাজারসহ ১২টি গ্রাম। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বালু উত্তোলন বন্ধের আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি জানিয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কৈটোলা নির্মাণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব এ প্রতিনিধিকে বলেন, যমুনা নদী ভাঙন প্রতিরক্ষ বাঁধের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীর যেকোনো পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন প্রতিরক্ষা বাঁধের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। নদীর যে স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হয় তার চার পাশের এলাকা ধসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হামিদ জানান বালু দস্যুদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকসহ সরকারের বিভিন্ন স্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে ।

বেড়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মাহবুব হোসেন জানান, যারা যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

"