রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্রের সায়

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিপীড়নের মুখে রাখাইন ছেড়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা নিশ্চিতে মিয়ানমারসহ ত্রিপক্ষীয় সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিদার নুয়ার্ট গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। এতে বলা হয়, নিজ আবাসভূমিতে অথবা নির্বাচিত স্থানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসনে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরিতে ইউএনএইচসিআর, ইউএনডিপি এবং বার্মা সরকারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।

গত বুধবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে শ্রম, জনসংখ্য ও অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে ইউএনএইচসিআর ও ইউএনডিপি। এর আগে এপ্রিলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সহযোগিতার জন্য সমঝোতা স্মারকে সই হয় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে।

সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় ইউএনএইচসিআর সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক এবং ইউএনএইচসিআরের মহাপরিচালক ফিলিপো গ্র্যান্ডি এই সমঝোতা স্মারকে সই করেন। ওই সময় ইউএনএইচসিআর থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে থাকা শরণার্থীরা মিয়ানমারে ফেরার আগে তাদের নাগরিকত্বের অধিকার এবং রাখাইনে নিজ ভূমিতে সব মৌলিক অধিকার নিয়ে নিরাপদে বসবাস করার নিশ্চয়তা চায়।

মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী উইন মিয়াত আয়ে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে এসে জানিয়েছিলেন, মিয়ানমারের আইন অনুযায়ী যত তাড়াতাড়ি তারা ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড নেবে, তত দ্রুত তারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবে। এই প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ করতে ইউএনএইচসিআর বরাবর আহ্বান জানিয়ে আসছে। রাখাইনে রোহিঙ্গা দমন অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ বলে আসছে জাতিসংঘ। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ রোহিঙ্গা সঙ্কটকে এশিয়ার এ অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সমস্যা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গার মানবিক সংকট যে এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সে কথা বলেছেন। এই পরিস্থিতিতে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতাকে যথার্থ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। আস্থা নির্মাণে এই চুক্তি ভূমিকা রাখবে জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই প্রত্যাবাসন বাস্তবায়িত হলে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে মানবিক সাহায্য নিয়ে পৌঁছানো যাবে। একই সঙ্গে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমারকে সহযোগিতার মাধ্যমে রাখাইনবাসীদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন করা সম্ভব হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, মিয়ানমার সরকারকে জাতিসংঘের সংস্থা দুটির সঙ্গে একযোগে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ করারও আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

"