গণপরিবহন চালকদের অর্ধেকই মাদকসেবী

বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

ঢাকা শহরের পরিবহন শ্রমিকদের প্রায় ৫০ শতাংশই মাদক সেবন করেন। এর বেশির ভাগই আবার ইয়াবা খাচ্ছেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, সম্প্রতি ঢাকায় বেশ কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনায় হাত-পা বিচ্ছিন্ন হওয়াসহ মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পরিবহন মালিকরা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে আহ্বান জানিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর নাট্যমঞ্চে পরিবহন মালিক, শ্রমিক এবং ঢাকা মহানগর মেট্রোপলিটন পুলিশের যৌথ সভায় জানানো হয় ঢাকা শহরে এই মুহূর্তে গণপরিবহন রয়েছে ৫ হাজার।

পরিবহন মালিকদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতুল্লাহ জানান, ঢাকা শহরে প্রায় ৫০ হাজার পরিবহন শ্রমিক রয়েছেন, যার ৫০ শতাংশই মাদকাসক্ত। তিনি বলেন, ‘দেশে ইয়াবা এখন অনেক সহজলভ্য, যেখানে-সেখানে পাওয়া যাচ্ছে। ইয়াবা আসক্ত হয়ে যাচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকরা’। এনায়েতুল্লাহ ইয়াবা গ্রহণকারী চালকদের ধরে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগের প্রতি। তবে ফুলবাড়িয়া পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নূরুল আমিন নূরু বলছেন, শ্রমিকদের মাদক সেবনের অভিযোগ সত্য, তবে এটা এখনো মহামারীর আকার নেয়নি। ৮০ শতাংশ ড্রাইভার, কন্টাকটর, হেল্পার এখনো ভালো আছে।’ কোনো চালক মাদকসেবী হলে তাকে গাড়ি চালানো থেকে বিরত রাখতে বা বিশ্রাম দিতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন ট্রাফিকের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মীর রেজাউল আলম বলেন, চালকরা অ্যালকোহল গ্রহণ করলে, তা সঙ্গে সঙ্গে শনাক্ত করা সম্ভব। কিন্তু ইয়াবা গ্রহণ করলে রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন পড়ে, যেটা সময়সাপেক্ষ।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ সেন্টারের শিক্ষক কাজী মোহাম্মদ সাইফুন নেওয়াজ বলেন, ‘চালকরা মূলত কাজ করেন অনেকরকম চাপের মধ্যে। সেখানে যদি একজন চালক ইয়াবা সেবন করে গাড়ি চালান, তাহলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।’

তিনি বলেন, ‘একজন চালক যদি ইয়াবা সেবন করে গাড়ি চালান, তাহলে তিনি নিজেকে খুব অ্যাক্টিভ ও অতি আত্মবিশ্বাসী বোধ করবেন। এতে তিনি বিপজ্জনকভাবে অন্য গাড়িকে ওভারটেক করতে পারেন। রাস্তার ঝুঁকিগুলোকে তার ঝুঁকি মনে না-ও হতে পারে।’

নেওয়াজ আরো বলেন, ‘তার পারসেপশন রিয়্যাকশন টাইমটা বেড়ে যাবে। অর্থাৎ একটা ঝুঁকি দেখার পর তার প্রতিক্রিয়া হবে একটু দেরিতে, দেখা যাবে ব্রেক চাপছে বা গাড়িটা কন্ট্রোল করছে একটু দেরিতে।’

এদিকে অনেকের অভিযোগ, চালকদের কোনো নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা বা নিয়োগ পদ্ধতি নেই। যে যত বেশি ট্রিপ মারবে তার ততটাই লাভ। এটাই তাদের ইয়াবা সেবনের সহায়ক কারণ। চালকদের কর্মঘণ্টাকে এখনো কোনো একটা নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা হয়নি কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার এনায়েতুল্লাহ বলেন, ‘ইউরোপ, আমেরিকার কর্মঘণ্টার সঙ্গে যদি আপনি বাংলাদেশের পরিবহন সেক্টরকে মেলাতে যান, তাহলে সেটা তো আপনি পারবেন না। একটি বাস বা ট্রাক উত্তরবঙ্গে যেতে গেলে কত ঘণ্টা লাগে? সেখানে কি কর্মঘণ্টা ঠিক রাখা সম্ভব?’

ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ বলছে, চালক যদি ইয়াবা সেবন করে সেটা দ্রুত শনাক্ত করার জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তার খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। এদিকে শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) বলছে, ২০১৭ সালে পরিবহন খাতে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক মারা গেছে, যার সংখ্যা ৩০৭ জন।

"