বাসের চাপা

পা হারানো রাসেলকে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ কেন নয়

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৮, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের ওপর গ্রিনলাইন পরিবহনের বাস চাপায় পা হারানো প্রাইভেটকারচালক রাসেল সরকারকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সংরক্ষিত আসনের এক সংসদ সদস্যের করা রিটের শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। চার সপ্তাহের মধ্যে গ্রিনলাইন পরিবহনসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন খন্দকার শামসুল হক রেজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়। রিট আবেদনটি দায়ের করেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতি। তিনি জানান, সংবাদপত্রে মর্মান্তিক এ ঘটনা দেখে রিট করেছি। আদালত রুল জারি করেছেন।

গত ২৮ এপ্রিল মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে কথা কাটাকাটির জেরে গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসচালক ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাইভেটকার চালকের ওপর দিয়েই বাস চালিয়ে দেন। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারের (২৩) বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পা হারানো রাসেল সরকারের বাবার নাম শফিকুল ইসলাম। গাইবান্ধার পলাশবাড়ি এলাকার বাসিন্দা রাসেল রাজধানীর আদাবর এলাকার সুনিবিড় হাউজিংয়ে বসবাস করতেন এবং স্থানীয় একটি ‘রেন্ট-এ-কার’ প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেটকার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

পুলিশ জানায়, রাসেল যাত্রীসহ সকালে কেরানীগঞ্জে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় এলাকায় হানিফ ফ্লাইওভারের ঢালে পৌঁছালে পেছন থেকে গ্রিনলাইন পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। তখন প্রাইভেটকার চালক রাসেল গাড়ি থামিয়ে বাসচালকের সঙ্গে জানালা দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে গ্রিনলাইন বাসের চালক ক্ষিপ্ত হয়ে রাসেলের ওপর দিয়ে বাস চালিয়ে দেন। এতে ঘটনাস্থলেই রাসেলের বাম পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এদিকে প্রাইভেটকার চালককে চাপা দিয়ে পালিয়ে আসা গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসটিকে চালকসহ আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় চালক কবির হোসেনকে গ্রেফতারের পর তাকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সাইদ গত ২৯ এপ্রিল রিমান্ড নামঞ্জুর করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।

"