কেন ইসরায়েল ও ইরান একে অপরের শত্রু?

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

সম্প্রতি সিরিয়াতে ইরানের বিভিন্ন ঘাঁটিতে বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এরপরই প্রশ্ন উঠে কেন সিরিয়াতে ইরানের স্থাপনার ওপর হামলা করছে ইসরায়েল। এই দুই দেশের সম্পর্কটা কেমন? কেন ইসরায়েল এবং ইরান একে অপরের শত্রু? ১৯৭৯ সালে ইরানে শিয়া ইমামদের নেতৃত্বে বিপ্লবের পর সেখানে ধর্মীয় নেতারা ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দুতে চলে আসেন। ইরানের সেসব নেতা ইসরায়েলকে বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তখন থেকে ইসরায়েলের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে আসছে ইরান। ইরান বিবেচনা করে আসছে ইসরায়েল অবৈধভাবে মুসলমানদের ভূমি দখল করে রেখেছে। এদিকে ইসরায়েল তাদের অস্তিত্বের জন্য ইরানকে তাদের হুমকি হিসেবে দেখে। ইসরায়েল সব সময় বলে এসেছে ইরানের অবশ্যই পরমাণু অস্ত্র থাকা উচিত হবে না। ইসরায়েলের নেতারা মধ্যপ্রাচ্যে ও ইয়ামেনে ইরানের যে বিস্তৃতি সেটা দেখে উদ্বিগ্ন।

এখন সিরিয়ার সরকারের বড় সমর্থক রাশিয়া এবং ইরান। সিরিয়া কীভাবে এই দুই দেশের মধ্যে এলো? ২০১১ সাল থেকে প্রতিবেশী দেশ সিরিয়াতে যুদ্ধ শুরু হলে ইসরায়েল গভীর উদ্বেগের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। কিন্তু সিরিয়ার সরকার এবং বিদ্রোহীদের সঙ্গে এই যুদ্ধে ইসরায়েল কোনো সময় যুক্ত হয়নি। ইরানের অবস্থান ছিল উল্টো। ইরান, সিরীয় সরকারকে হাজার হাজার সৈন্য এবং সামরিক উপদেষ্টা দিয়ে সাহায্য করেছে। ইসরায়েল আরো উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করল ইসরায়েলের পার্শ্ববর্তী আরেক দেশ লেবাননের যোদ্ধাদের কাছে গোপনে অস্ত্র পাঠানোর চেষ্টা করছে ইরান। এটা ইসরায়েলকে আরো হুমকির মুখে ফেলে দেয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বার বার বলেছেন তার দেশ সিরিয়াতে ইরানকে কোনো ধরনের ঘাঁটি তৈরি হতে দেবে না, যেটা ইসরায়েলের বিপক্ষে ব্যবহার করা হতে পারে। এ অবস্থায় ইরান যেহেতু সিরিয়াতে একটা শক্তিশালী অবস্থানে চলে গেছে, ইসরায়েলও তাদের ধ্বংস করার জন্য তাদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা করেছে। তাছাড়া ইসরায়েলের এই ইরানবিরোধিতায় সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের সায় রয়েছে। ইসরায়েল এবং ইরান কি যুদ্ধ লিপ্ত হবে? না। এর পেছনে কয়েকটি শক্ত কারণ রয়েছে। ইরানের সঙ্গে রয়েছে শক্তিশালী গ্রুপ যারা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে রয়েছে। তারা হলো হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনের সামরিক সংগঠন হামাস। এরপরও যদি ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধে জড়ায় তবে তা হবে ভয়ঙ্কর ধ্বংসাত্মক। এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ বাড়াবে।

"