মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার

হবিগঞ্জে আ.লীগ নেতাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৮, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। তারা হলেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের গোলাপ মিয়া, জামাল উদ্দিন আহম্মদ (বিএনপির সঙ্গে যুক্ত) এবং শেখ গিয়াস উদ্দীন আহমদ (জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আছেন)।

আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থার দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর পাঁচটি অভিযোগ এনে গতকাল রোববার প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ট্রাইব্যুনালের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন। আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম।

আইনজীবী চমন বলেন, অভিযোগ আমলে নেওয়া হবে কি হবে না সে বিষয়ে আগামী ৪ জুন আদেশের দিন ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

গত ৮ মার্চ এ তিন আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। সেদিনই তা প্রসিকিউশনে জমা দেওয়া হয়। তিন আসামির মধ্যে গোলাপ মিয়া ও জামাল উদ্দিন কারাগারে আছেন। অপর আসামি শেখ গিয়াস উদ্দীন আহমদ পলাতক।

মুক্তিযুদ্ধের সময় এই তিন আসামিই কনভেনশন মুসলিম লীগের সমর্থক ছিলেন। তার মধ্যে গোলাপ মিয়া নবীগঞ্জ থানার গজনাইপুর ইউনিয়নের রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। তার বাবা ছিলেন একই ইউনিয়নের শান্তি কমিটির সদস্য।

আসামি জামাল উদ্দিনের বাড়ি একাত্তরে ছিল একই থানার লোগাঁও গ্রামে। এখন সেখানে তার বাড়িঘর নেই। সে আসামি গোলাপ মিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বর্তমানে সে বিএনপির সমর্থক। আসামি গিয়াস উদ্দীন আহমদ কনভেনশন মুসলিম লীগের সমর্থনের পাশাপাশি গজনাইপুর ইউনিয়ন শান্তি কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। বর্তমানে সে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ এনেছে তদন্ত সংস্থা। এই তিন আসামির বিরুদ্ধে ১৭ জনকে হত্যা, ৬ নারীকে ধর্ষণ, ২৫টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ৩০ জনকে অপহরণ-নির্যাতনের অভিযোগ উঠে এসেছে তদন্তে।

"