বাগেরহাটে হরিণের মাংস ও ফাঁদসহ ৫ শিকারি আটক

প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৮, ০০:০০

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে হরিণ শিকার ও কাঁকড়া আহরণের দায়ে ৭ জনকে আটক করেছে বনবিভাগ। এদের মধ্যে পাঁচজন হরিণ শিকারি এবং দুজন কাঁকড়া শিকারি। গত শনিবার সন্ধ্যা ও গভীর রাতে শরণখোলা রেঞ্জের স্মার্ট টিমের টহল দল ও জ্ঞানপাড়া টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীরা শ্যালার চরের মানিকখালী খাল ও চরদুয়ানির বলেশ্বর নদীতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। গতকাল রোববার সকালে তাদের বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ শিকারিরা চিংড়ি হ্যাচারির জন্য সুন্দরবনের লবণ পানি সংগ্রহের নামে কৌশলে হরিণ শিকার করছিল বলে বনবিভাগ জানিয়েছে। এ সময় হরিণ শিকারের কাজে ব্যবহৃত এমভি আল মদিনা-১ নামের একটি কার্গো জাহাজ, ২৩০টি হরিণ ধরা ফাঁদ, ৩০ কেজি হরিণের মাংস, একটি নৌকা, তিনটি দা, একটি কুড়ালসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া জেলেদের কাছ থেকে ১৫টি কাঁকড়া ধরা বাঁশের চাঁই, ৩০ মিটার কারেন্ট জাল, ১০০ মিটার চরপাটা জাল, একটি নৌকা ও একটি সোলার প্যানেল জব্দ করা হয়। আটক হরিণ শিকারিরা হলেনÑ খুলনার দাকোপ উপজেলার আমতলা গ্রামের বিশ্বজিৎ মৃধা, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাসপাড়া গ্রামের আলামীন, একই জেলার গলাচিপার চরকাজল গ্রামের হাসান, ওই উপজেলার ছোট চরকাজল গ্রামের সুমন ও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের সাইদ সরদার। অপরদিকে শ্যালার চর এলাকার নীলবাড়িয়া খালে কাঁকড়া ও মাছ ধরার সময় বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার কুমলাই গ্রামের রবিউল শেখ এবং একই গ্রামের সহিদ শেখকে আটক করে স্মার্ট টিম।

শরণখোলা স্মার্ট টিম-১-এর লিডার মো. ফারুকুল ইসলাম জানান, শ্যালার চরের মানিকখালী খালে অভিযান চালিয়ে হরিণ শিকারের প্রস্তুতিকালে একটি কার্গো জাহাজ এবং ২০০টি নাইলনের ফাঁদসহ ৫ হরিণ শিকারিকে আটক করা হয়।

বনবিভাগের জ্ঞানপাড়া টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূরুল আমীন জানান, বলেশ্বর নদীতে নিয়মিত টহলকালে নৌকা দেখতে পেয়ে চ্যালেঞ্জ করা হয়। পরে নৌকা তল্লাশি করে ৩০ কেজি হরিণরে মাংস, ৩০টি নাইলনের হরিণ ধরা ফাঁদ, ৩টি দা ও একটি কুড়াল জব্দ করা হয়।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মোহাম্মদ হোসেন জানান, জব্দকৃত কার্গো জাহাজটি ঢাকার উত্তরা এলাকার গালফ ফুড লিমিটেড কোম্পানির সিইও এসএম আব্দুলাহ আল মামুন নামের এক ব্যক্তির বলে জানা গেছে। তার মোংলা পোর্ট এলাকায় অবস্থিত চিংড়ি হ্যাচারি রয়েছে। ওই হ্যাচারির জন্য সুন্দরবন থেকে লবণ পানি সংগ্রহের নামে কৌশলে তার লোকেরা হরিণ শিকার করছিল।

"