সাবেক মন্ত্রী মাঈদুল ইসলাম আর নেই

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুড়িগ্রামের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী এ কে এম মাঈদুল ইসলাম মারা গেছেন। তার ছোট ভাই তানভীরুল ইসলাম জানান, ফুসফুসের জটিলতায় আক্রান্ত মাঈদুল ইসলাম বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই রাজনীতিবিদের বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোক জানিয়েছেন। শিল্পপতি মাঈদুল ইসলাম ছয়বার কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদে এসেছিলেন। জিয়াউর রহমান ও এইচ এম এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভাতেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। এই সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন রাষ্ট্রপ্রতি মো. আবদুল হামিদ। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এক শোকবার্তায় বলেছেন, মাঈদুল ইসলামের মৃত্যুতে বাংলাদেশ ‘একজন জনদরদী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারাল।’ তানভীরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার জুমার পর আসাদ গেটের মসজিদে তার ভাইয়ের জানাজা হয়। আজ শনিবার তার কফিন হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হবে কুড়িগ্রামের উলিপুরে তার নির্বাচনী এলাকায়। এ দিন বেলা সাড়ে ১১টায় উলিপুর স্টেডিয়াম মাঠে জানাজার পর আবার মরদেহ ঢাকায় নিয়ে আসা হবে। রোববার বেলা ১১টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এবং আসরের পর গুলশানের আজাদ মসজিদে আরো দুই দফা জানাজা হবে মাঈদুল ইসলামের। পরে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। জাতীয় পার্টির নেতা মাঈদুল ইসলামের রাজনৈতিক জীবন শুরু জিয়াউর রহমানের জাগ দলে। ১৯৭৯ সালে তিনি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। জিয়ার মৃত্যুর পর বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভাতেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। জিয়া নিহত হওয়ার পর বিএনপিতে যে কজন নেতার সক্রিয় ভূমিকা ছিল, তাদের মধ্যে মাঈদুল ছিলেন অন্যতম। কিন্তু পরে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং ১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এইচ এম এরশাদের মন্ত্রিসভায় ভূমি, নৌপরিবহন, পাট, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরশাদ সরকারের পতনের পর একবার পুরনো দল বিএনপিতে ফিরলেও পরে আবার তিনি এরশাদের দলে যান এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকেই এমপি নির্বাচিত হন।

 

"