ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে ক্লাস নিলেন এক শিক্ষক

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিস্টার ক্লাস করতে পারেননি ক্রিস্টেন ব্ল্যাক। কিন্তু তিনি ফের ক্লাসে ফিরতে মরিয়া ছিলেন। নতুন সেমিস্টারে ক্লাস শুরুও করেন। কিন্তু ছোট্ট শিশুকে একা বাসায় রেখে আসা তার জন্য বেশ কঠিন ছিল। তাই সন্তানকে ক্লাসে নিয়ে আসতে শুরু করেন ক্রিস্টেন। শিক্ষক বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নেন। উল্টো তিনি তার ছাত্রীর সন্তানকে কোলে নিয়ে ক্লাস করান।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটেছে। ক্রিস্টেনের বয়স ২১ বছর। তার সন্তানের বয়স আট মাস। সন্তান জন্মদানের কারণে ক্রিস্টেনের পড়া লেখায় ছেদ পড়েছিল। পরে নতুন করে ক্লাসে ফেরেন তিনি।

কোর্সের অংশ হিসেবে ক্রিস্টেনকে পদার্থবিজ্ঞান নিতে হয়। এই বিষয়ের অধ্যাপক ব্রুস জনসন। পদার্থবিজ্ঞানের জটিল বিষয় ভালোভাবে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর জন্য অতিরিক্ত ক্লাস নেন তিনি। কিন্তু সন্তানের জন্য এই ক্লাসে অংশ নিতে পারছিলেন না ক্রিস্টেন। তবে ক্লাসে আসার প্রয়োজনীয়তা খুব করে অনুভব করছিলেন ক্রিস্টেন।

শেষে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ক্লাসে আসার ব্যাপারে শিক্ষকের অনুমতি চান ক্রিস্টেন। অধ্যাপক জনসন অনুমতি দিলে মেয়েকে নিয়ে ক্লাসে যোগ দেন ক্রিস্টেন। দুই ঘণ্টার ক্লাস চলাকালে ছাত্রীর মেয়েকে সামলানোর কাজও করেছেন এই অধ্যাপক। এ ঘটনার কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, ছাত্রীর মেয়েকে সামলাতে সামলাতেই ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক।

এক সাক্ষাৎকারে জনসন বলেন, ‘মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে হাসছিল। এভাবে যখন কেউ আপনার দিকে তাকিয়ে সুন্দর হাসি দেবে, তখন আপনি গলে যাবেন। আমি ওকে কোলে নিয়েই ক্লাস শুরু করে দিই।’

প্রায় ২০ মিনিট জনসনের কোলে ছিল ক্রিস্টেনের মেয়ে। ওই মুহূর্তের একটি ছবি তোলেন ক্রিস্টেন। তিনি বলেন, তার মেয়ে অধ্যাপক জনসনের কোলে থাকায় তার ক্লাস নোট দিতে বেশ সুবিধা হয়েছিল। এটি ছিল এক অসাধারণ ঘটনা।

জনসন অনেক দিন ধরেই শিক্ষকতায় আছেন। পারিবারিক দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সঙ্গে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক মনে করেন তিনি। এই অধ্যাপক বলেছেন, ক্লাস করতে ক্রিস্টেনের যাতে সুবিধা হয়, সে জন্য ভবিষ্যতেও এমন সহযোগিতা করবেন তিনি।

শিক্ষকের এমন মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়েছেন ক্রিস্টেন। তিনি তার অধ্যাপককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

 

"