বিএনপি নেতা এম শামসুল ইসলামের মৃত্যু

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক তথ্যমন্ত্রী বিএনপি নেতা এম শামসুল ইসলাম ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি... রাজিউন)। বেলা দেড়টার দিলে মৃত্যু হয় বলে তার একান্ত সচিব কামরুল হাসান জানান। শ্বাসকষ্টসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা নিয়ে গত ১৭ এপ্রিল থেকে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এম শামসুল ইসলাম। তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ইন্দোনেশিয়ার হাইকমিশনার ছিলেন। মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন থেকে তিনবার তিনি সংসদ সদস্য হন। ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারে বাণিজ্য, টেলি যোগাযোগ ও পরে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এম শামসুল ইসলাম। ২০০১ সালে বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে তাকে প্রথমে ভূমি ও পরে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

১৯৯৭ সালের শেষে দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়া এম শামসুল ইসলাম ২০১৪ সালে দলের কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন। চারদলীয় জোট গঠনেরও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে বিএনপি নেতারা জানান।

তার একান্ত সচিব কামরুল হাসান জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর গুলশানের আজাদ মসজিদে এম শামসুল ইসলামের জানাজা হওয়ার কথা। আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নিয়ে যাওয়া হবে সাবেক এই সংসদ সদস্যকে। সেখানে জানাজা শেষে সকাল ১০টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন দলের নেতাকর্মীরা। নয়াপল্টনে আরেক দফা জানাজার পর দুপুরে এম শামসুল ইসলামের কফিন নিয়ে যাওয়া হবে মুন্সীগঞ্জে তার গ্রামের বাড়িতে।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার তিনসুড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। শামসুল ইসলামে মৃত্যুতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোক প্রকাশ করেছেন।

শামসুল হকের জন্ম ১৯৩২ সালের ১ জানুয়ারি। তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন তৎকালীন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) ঢাকা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং ওই ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সদস্য ছিলেন ।

শামসুল ইসলাম দুই ছেলে রেখে গেছেন। তার স্ত্রী ২০১৬ সালে মারা যান। বড় ছেল সাইফুল ইসলাম বিএনপির থিংক ট্যাঙ্ক সংগঠন হিসেবে পরিচিত জি-নাইন এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

"