আশুলিয়ায় ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ২ যুবকের লাশ উদ্ধার

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

আশুলিয়া প্রতিনিধি

সাভারের আশুলিয়ায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভেতর থেকে এক কর্মচারীসহ দুই যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশ দুইটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সাভারের জিরানী এলাকার হাজী আনোয়ার মডার্ন ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ডক্টরস চেম্বারের নিচতলার রিসিপশন থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় লাশ দুইটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত একজন ফরহাদ হোসেন সে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার কাঠবালা গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে। সে জিরানীর টেঙ্গুরি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া থেকে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মার্কেটিং বিভাগে কাজ করত। নিহত আরেকজনের নাম নাবীনূর সে নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার মহাদিঘী গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় মাদ্রাসা মার্কেট এলাকার একটি কাঠের দোকানের কর্মচারী।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ল্যাব টেকনিশিয়ান অসীম মন্ডল জানান, প্রতিদিন সকাল ৮টার দিকে ফরহাদ ঘুম থেকে উঠে বাসায় খেতে যায়। কিন্তু আজ (মঙ্গলবার) সকালে সে বাড়িতে না যাওয়ায় তার ছোট ভাই শরিফুল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাকতে আসে। অনেক ডাকাডাকি করলেও ফরহাদ সাড়া দেয়নি। এ সময় তিনি দেখেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শাটার খোলা ছিল। কিন্তু ভেতর থেকে কলাপসিবল গেটে তালাবদ্ধ ছিল। এ কারণে তারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভেতর থেকে লাশ দুইটি উদ্ধার করে।

ফরহাদ হোসেনের মা মমতাজ বেগম জানান, তার ছেলে বিগত চার বছর ধরে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ করে আসছিল। গত কয়েক দিন ধরেই তাকে আতঙ্কিত মনে হয়েছিল, সে অসুস্থ বোধ করছিল। প্রতিদিনই তাকে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে রাত যাপন করতে হতো। সর্বশেষ গতকাল রাতে একা রাত যাপন করতে ভয় পায়। বিধায় বন্ধু নাবীনূরকে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে আসে ফরহাদ। এরপর আজ সকালে তাদের দুইজনের মৃত্যুর খবর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শুনতে পান তিনি।

তিনি আরো জানান, তার ছেলে কখনই নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করত না। কিন্তু অসুস্থতার কারণে গত কয়েক দিন ধরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকপক্ষের কাছে ছুটি চাইলেও তাকে ছুটি দেওয়া হয়নি। আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাবেদ মাসুদ জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি বোতল, গ্লাস ও জগসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে ভিসেরা পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে লাশ দুইটিও ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

"