বিড়ি শিল্প বন্ধে অর্থমন্ত্রীর চিঠির প্রতিবাদ

১১ মন্ত্রী-এমপিকে স্মারকলিপি

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই বছরের মধ্যে বিড়ি শিল্প বন্ধ করে দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রী যে চিঠি দিয়েছিলেন, তার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিড়ি শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। এই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ১৬ জন মন্ত্রী ও এমপিকে স্মারকলিপি দিয়েছে পরিষদ। একই সঙ্গে বিকল্প কর্মসংস্থানেরও দাবি জানিয়েছে তারা। উল্লেখ্য, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত চলতি মাসের শুরুতে একটি চিঠি লেখেন। সেখানে যারা প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্বের পদে থাকবেন তাদের ধূমপান বন্ধ এবং আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে সিগারেট বন্ধের সময় নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিড়ি শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ জানায়, যশোর অঞ্চলে সংগঠনের পক্ষে প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, স্বপন ভট্টাচার্য, রণজিৎ রায় এবং মনিরুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। কুষ্টিয়া অঞ্চলের শ্রমিক-কর্মচারীরা তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, দৌলতপুর এলাকার সংসদ সদস্য রেজাউল করিমের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে।

রংপুর অঞ্চলের শ্রমিক-কর্মচারীরা স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, সংসদ সদস্য টিপু মুনশি, এইচ এন আশিকুর রহমান, আহসান হাবিব ডিউক চৌধুরীর কাছেও স্মারকলিপি প্রদান করে।

বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলালের এপিএস সংসদ সদস্যের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল খালেক তালুকদারকে স্মারকলিপি দিয়েছে ওই অঞ্চলের বিড়ি শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। এছাড়াও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুককে।

শ্রমিকরা মনে করেন অর্থমন্ত্রীর একতরফা সিদ্ধান্তে সিগারেট শিল্প লাভবান হবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত লাখ লাখ শ্রমিক। এটা অর্থমন্ত্রী পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত ও কূটকৌশল। স্মারকলিপিতে বহুজাতিক কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিড়ি শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থান সাপেক্ষে বিড়ি-সিগারেট বন্ধের সময় নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে বিড়ির ওপর শুল্ক ১৮ গুণ বেশি। ভারতের যেসব কারখানায় ২০ লাখ স্টিকের নিচে বিড়ি তৈরি হয় তাদের কোনো শুল্ক দিতে হয় না। ভারতে বিড়িকে কুটির শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আর বাংলাদেশে দফায় দফায় অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে বিড়ি শিল্পকে ধ্বংস করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

"