র‌্যাব-পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৫

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

ঢাকার ধামরাইয়ে র‌্যাবের সঙ্গে ’বন্দুকযুদ্ধে’ তিন ডাকাত নিহত হয়েছেন। এছাড়া রাজবাড়ী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছেন আরো দুই ব্যক্তি। রাজবাড়ী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় পুলিশ বলেছে, নিহত ব্যক্তিরা সন্ত্রাসী। এদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা আছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে ও গত সোমবার গভীর রাতে এসব ঘটনা ঘটে।

ধামরাই (ঢাকা) : ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গতকাল বিকেল ৪টার উপজেলার কেলিয়া এলাকায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিন ডাকাত নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন র‌্যাবের দুই সদস্য মো. রাজ্জাক, মো. সোহেল। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

র‌্যাব-২ এর আগারগাঁও স্কট কমান্ডর মো. শহীদুল্লাহ বলেন, গোপনে খবর আসে, কেলিয়া এলাকায় একটি এনজিও থেকে প্রায় ৬৪ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় তারা ডাকাতের কবলে পড়তে পারে। এই খবরে আমরা ধামরাই কালামপুর আঞ্চলিক সড়কের কেলিয়া নামক স্থানে গিয়ে ছদ্মবেশে বসে থাকি। পরে দেখি ছয়-আট জন লোক রাস্তার পাশে ফুসুর ফাসুর করছে। এগিয়ে তাদের জিজ্ঞাসা করলে এক পর্যায় আমাদের দিকে গুলি ছুড়তে থাকে, তখন অবস্থা খারাপ দেখে আমরাও পাল্টা গুলি চালাই। এক পর্যায় ডাকাত দল পিছু হটতে থাকলে গুলিতে তিনজন মারা যায়। বাকি ৫-৭ জন দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে নিহতদের কাছে তিনটি বিদেশি পিস্তল ও একটি চাপাতি দুটি ছুরি এবং কয়েকটি হাত বোমা পাওয়া যায়।

এই ব্যাপারে ধামরাই থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ রিজাউল হক দিপু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের নামপরিচয় জানা যায়নি।

রাজবাড়ী : সদর উপজেলার জৌকুড়া ফেরিঘাট এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সাইদুর রহমান (৩২) নিহত হন। তার বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার আটঘরিয়া গ্রামে।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি তার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, চরমপন্থিরা গোপন বৈঠক করছে এ খবর পেয়ে রাজবাড়ীর ডিবি পুলিশ কামাল হোসেনের নেতৃত্বে রাত আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। চরমপন্থিরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় চরমপন্থিরা চরের দিকে চলে গেলে সাইদুলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাকে সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ সুপার জানান, নিহত সাইদুলের বিরুদ্ধে পাবনা থানায় ২টি হত্যা, ২টি অস্ত্র, অপহরণসহ ৭টি মামলা রয়েছে। সে পদ্মা নদীতে নৌকা এবং মানুষ অপহরণ করে চাঁদাবাজি করত এবং ভাড়ায় মানুষ হত্যা করত। আহত পুলিশ কর্মকর্তারা হচ্ছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিব খান, ইনসপেক্টর জিয়ারুল এবং কনস্টেবল পঙ্কজ। তাদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : আখাউড়ার বাইপাস রেলগেট এলাকায় গত সোমবার রাত ৩টার দিকে ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক খোকন সূত্রধর নামের এক ব্যক্তি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি গুলি ও একটি চাপাতি উদ্ধার করে। পুলিশের ভাষ্য, সহযোগী অন্য ছিনতাইকারীদের গুলিতে খোকন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তার বিরুদ্ধে আখাউড়া থানায় ১৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের একটি মামলা রয়েছে।

আখাউড়ার থানার ওসি মোশারফ হোসেন তরফদার জানান, গত সোমবার সকালে ব্রিটিশ টোব্যাকো কোম্পানির আখাউড়ার ব্যবস্থাপক মানিক দেবনাথ (৩৩) কোম্পানির ১৮ লাখ ৬৮ হাজার ৯২০ টাকা সোনালী ব্যাংকে জমা দিতে যান। এ সময় খোকনসহ তিনজন মানিকের পথরোধ করে মারধর করেন। তখন তারা মানিকের ডান কানে ছুরিকাঘাত, মাথা ও শরীরের অন্য জায়গায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন। পরে তার কাছ থেকে টাকা ছিনতাই করার সময় স্থানীয় লোকজন খোকনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে অন্যরা পালিয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদে খোকন তার সহযোগীদের নামসহ পুলিশকে তথ্য দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৩টার দিকে অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় বাইপাস রেলগেট এলাকায় ওঁতপেতে থাকা খোকনের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। তখন আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় তার সহযোগীদের গুলিতে খোকন আহত হন। পরে তাকে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বন্দুকযুদ্ধে আখাউড়া থানার এএসআই নুরুল ইসলাম, কামাল হোসেন ও কনস্টেবল শামীম আহত হয়েছেন। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

"