সিরিয়ায় একযোগে যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের হামলা

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সিরিয়ার দৌমা শহরে রাসায়নিক হামলার জন্য বাশার আল আসাদের বাহিনীকে দায়ী করে দেশটির সরকার নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন স্থাপনায় একযোগে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া ও ইরান। জাতিসংঘও এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। এদিকে সিরিয়ার সরকারি হামলাস্থল পরিদর্শন শুরু করেছেন জাতিসংঘের পরিদর্শকরা।

এর আগে সিরিয়ার দৌমা শহরে গত সপ্তাহে চালানো রাসায়নিক হামলায় ৮০ জন নিহত হন। এজন্য দেশটির সরকারকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। তবে রাসায়নিক হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া। এদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে হামলার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করেছে রাশিয়া। তবে প্রস্তাবটি ১৩-২ ভোটে নাকচ হয়ে যায়। ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে কেবল বলিভিয়া ও চীন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের নির্দেশনায় এ হামলা শুরু করেছে পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো। এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় গত শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ায় হামলা ?শুরুর ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে আমি যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীকে সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রের স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছি। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে এ হামলা চলছে।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সিরিয়া ও তাদের মিত্র বাহিনীগুলো দেশটির বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অভিযান শুরু করে। তাদের আক্রমণে বিদ্রোহীরা বিভিন্ন এলাকা থেকে পিছু হটলেও দৌমায় শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরে সেখানে মারাত্মক বিমান হামলা শুরু করে আসাদের মিত্র বাহিনী।’

এদিক এই যৌথ হামলা সফল হয়েছে দাবি করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে বলেছেন, সিরিয়ায় এ হামলার কোনো বিকল্প ছিল না। লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। খবর বিবিসির। তিনি বলেন, এ হামলা ছিল যথার্থ এবং সম্পূর্ণ ব্রিটেনের স্বার্থের অনুকূলে। তবে এ হামলার মাধ্যমে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না বা সিরিয়ার ক্ষমতায় পালাবদল ঘটানোর চেষ্টাও করা হচ্ছে না।

অপরদিকে, সিরিয়ার সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সিরিয়ায় নতুন করে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলা চালাবে। এজন্য তার দেশ প্রস্তুত রয়েছে।

তবে ত্রিদেশীয় এ হামলাকে সামরিক আগ্রাসন বলে আখ্যা দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, এই হামলা সিরিয়ার মানবিক সংকট বাড়াবে। পুতিন কড়া ভাষায় আমেরিকা আর পশ্চিমা দেশগুলোর আগ্রাসনের নিন্দা করলেও সরাসরি আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতের কথা বলেননি।

রাসায়নিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক সংস্থার (ওপিসিডব্লিউ) পরিদর্শকরা এখন দামেস্কে অবস্থান করছেন। এ সপ্তাহের শেষে তাদের দৌমায় যাওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘে রাশিয়ার দূত ভাসিলি নেবেনজিয়া প্রেসিডেন্ট পুতিনের একটি বিবৃতি পড়ে শোনান। এতে বলা হয়, দৌমার ঘটনায় তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ হামলা যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্রদের তীব্র ঘৃণার প্রকাশ।

আর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, দৌমায় রাসায়নিক হামলা চালানোর পক্ষে তাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে। জাতিসংঘে সিরিয়ার দূত বাশার জাফারি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স প্রকৃতপক্ষে মিথ্যাবাদী ও ভ-, তারা তাদের আগ্রাসী ঔপনিবেশিক নীতি বাস্তবায়নে জাতিসংঘকে ব্যবহার করছে।

সিরিয়ায় শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স জোটের হামলা নিয়ে মুখ খুলেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান। শনিবার জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির এক সমাবেশে তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যৌথ হামলা এই বার্তা দেয় যে কোনো অপরাধীই শাস্তির ঊর্ধ্বে নয়’। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কের সম্পর্কে টানাপড়েন চললেও সিরিয়ায় হামলাকে স্বাগত জানিয়েছেন এরদোয়ান।

তিনি বলেন, ‘সিরিয়ার অসহায় নাগরিকরা দীর্ঘদিন যাবত অত্যাচার সহ্য করছে এর একটা জবাব দেওয়ার দরকার ছিল’। খবর আল জাজিরার।

"