‘ঢাবি থেকে এশার বহিষ্কার সংবিধান পরিপন্থী’

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগের সভানেত্রী ইফফাত জাহান এশাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বহিষ্কারাদেশ দেশের মৌলিক অধিকার ও সংবিধানের পরিপন্থী। তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করাও ঠিক হয়নি বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা-বিষয়ক সম্পাদক হাছান মাহমুদ। গতকাল শুক্রবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে হাছান মাহমুদ এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগের সভানেত্রীকে যে প্রক্রিয়ায় ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, সেটি সঠিক ছিল না। আমি মনে করি, ছাত্রলীগ তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’

তদন্ত ছাড়া ইফফাতকে বহিষ্কার করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আসার পর কোনো প্রকার তদন্ত ছাড়া মৌখিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে দেওয়ার মতো ঘোষণা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠান দিতে পারেÑ এটি আমার কল্পনারও বাইরে। এটি দেশের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী, সংবিধান পরিপন্থী, যেটি সমীচীন হয়নি। যে কেউ অপরাধ করলে সেটির তদন্ত হতে হবে। তদন্তের পর শাস্তি হবে। এখানে কোনো তদন্তই করা হয়নি।’

গত মঙ্গলবার গভীর রাতে সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রীরা অভিযোগ করেন, ইফফাত প্রায়ই ছাত্রীদের ওপর নির্যাতন চালাতেন। তবে এত দিন ভয়ে কেউ মুখ খোলেননি। আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় ওইদিন রাতে বেশ কয়েকজনকে কক্ষে ডেকে চড়-থাপ্পড় দেন ইফফাত। রাতে ছাত্রীদের চিৎকার শুনে সেখানে যান উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী মোর্শেদা খানম। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মোর্শেদা কক্ষের জানালার কাচে লাথি মারেন। এতে তার পা কেটে যায়। খবর পেয়ে অন্য ছাত্রীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ইফফাতকে মারধর করে তাকে আটকে রাখেন। তাকে বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন অনেকে। অনেকে মোর্শেদার কেটে যাওয়া পায়ের ছবি তুলে ও ছাত্রী নির্যাতনের কথা লিখে ফেসবুকে শেয়ার করেন।

মোর্শেদা ছাত্রলীগের সুফিয়া কামাল হল শাখার সহসভাপতি। তাকে প্রথমে সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল ও পরে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ছাত্রী নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে হলের সামনে বিভিন্ন হলের ছাত্ররা জড়ো হয়ে ইফফাতের বহিষ্কারের দাবিতে সেøাগান দিতে থাকেন। ইফফাতকে বহিষ্কারের দাবিতে হলের ভেতরে ছাত্রীরা ও বাইরে কয়েক হাজার ছাত্র বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী হলে প্রবেশ করলে ছাত্রদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। পরে ইফফাতকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানালে ছাত্ররা ফিরে যান।

ব্রিফিংয়ে বিএনপির সমালোচনা করে হাছান মাহমুদ বলেন, ৮ এপ্রিল রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা ও টেলিফোনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশনা একই সূত্রে গাঁথা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে টেলিফোন করে নির্দেশনা দিয়েছেন কিভাবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে রাজনৈতিকীকরণ করা যায়। একটি অডিও বার্তায় এ কথা শোনা গেছে। আরো বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে, তাদের আগুন-সন্ত্রাস বাহিনী ঢুকিয়ে দিয়ে এই আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা ছিল।

 

"