রামেক হাসপাতালে লাশ বহনে তুঘলকি কাণ্ড

পুলিশ বক্স ও হাসপাতালের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

এসএইচএম তরিকুল, রাজশাহী

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ভিতরে থাকা বেসরকারি মাইক্রোবাস সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন রোগীরা। সেখানে ভাড়ার ব্যাপারে মাইক্রোবাসের তুঘলকি কাজকারবার থেকে রেহাই পাচ্ছেন না রোগী ও তার স্বজনরা, ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন এই জুলুমবাজি দেখার কেউ নেই। ক্ষেত্র বিশেষে তাদের গুনতে হয় ১০গুণ ভাড়া। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে এসব মাইক্রোবাস হাসপাতাল চত্বর থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ। তবে এর স্থায়িত্ব থাকে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ বক্স ও হাসপাতাল প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এই সিন্ডিকেটকে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করা সম্ভব হয় না।

আপনজনের লাশ নিয়ে স্বজনরা যখন বিপাকে, শোকে মুহ্যমান, কথা বলার মতো শক্তি বা ভাষা পর্যন্ত থাকে না, বাড়ি ফেরার জন্য মাইক্রোবাস ভাড়া করতে আসেন। ঠিক সে সময়ই শোকাহত পরিবারের ওপর ইচ্ছেমতো ভাড়ার বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে মাইক্রোবাস ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায় অভিভাবকদের হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে যেতে বাধা দেওয়া হয়। আবার নায্যমূল্যে বাইর থেকে মাইক্রোবাস আনলেও সেই গাড়িতে লাশ তুলতে দেয় না এই সিন্ডিকেট সদস্যরা। এ কারণে বাধ্য হয়ে ওই সিন্ডিকেটের গাড়িতেই পাঁচ থেকে ১০গুণ বেশি ভাড়া মেনে নিতে হয় রোগীর আপনজনদের। তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতাল পুলিশ বক্সের সহায়তা চাইলেও তারা কোনো প্রকার সহযোগিতা করেন না। যে কারণেই রামেক হাসপাতাল কেন্দ্রিক গড়ে ওঠা এই মাইক্রোবাস ব্যবসায়ীরা ভাড়া নিয়ে বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তারা বলেন, সিন্ডিকেটের বাইরে কোনো মাইক্রোবাস বা সিএনজি গাড়ি হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। জরুরি ভিত্তিতে বহিরাগত কোনো গাড়ি হাসপাতালে প্রবেশ করলে তার চালককে মারপিট করে বের করে দেওয়া হয়, রামেক হাসপাতালে এমন অভিযোগ নিত্য দিনের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের মূল ফটকের ভিতরে জরুরি বিভাগের সামনে সিরিয়াল অনুযায়ী, মাইক্রোবাস রাখা হয়েছে। এছাড়াও লক্ষ্মীপুর মোড় হতে রামেক হাসপাতালের মূল ফটক পর্যন্ত অর্ধেক রাস্তা দখল করে রেখেছে। এসব গাড়ির বেশিরভাগই ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন। তারপরেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকায়।

অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ আতাউর রহমান গতকাল শুক্রবার বিকেলে প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের করার কিচ্ছু নাই। উচ্ছেদ অভিযানের পর মাইক্রোবাস আবারও বসলে তাতক্ষণিকভাবে কমিশনার স্যারকে জানানো হয়। কিন্তু কেন স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ হয় না সে বিষয়ে বলতে পারব না।’

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘আবারও মাইক্রোবাস সিন্ডিকেট এমন অবস্থার সৃষ্টি করেছে বিষয়টি আমার জানা ছিল না। কেউ কখনো অভিযোগও করেনি। এখন জানলাম, ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, বর্তমান পুলিশ কমিশনার যোগদানের পর প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকা মারফত জনদুর্ভোগের বিভিন্ন খবর দেখে ইতিপূর্বেও তাতক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছেন। যার মধ্যে নগরীর আবাসিক হোটেলে বন্ধ হয়েছে দেহ ব্যবসা ও বাস টার্মিনাল এলাকার মহাসড়কের ওপর যত্রতত্র রাখা যানবাহন অপসারণ করা হয়েছে। তবে হাসপাতালের পুলিশ বক্সের অসহযোগিতার কারণে রোগীর স্বজনরা মাইক্রোবাসের সিন্ডিকেট বাণিজ্যের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। সেই সঙ্গে হাসপাতালের সামনের সড়কের ওপর যত্রতত্র মাইক্রোবাস রাখার কারণে এ এলাকার যানজট সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হচ্ছে না।

 

"