যৌন হয়রানির অভিযোগ নোবেল কমিটিতে

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

যৌন হয়রানির কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠায় বিব্রত হয়েছে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার-বিষয়ক কমিটি। সুইডেনের যে প্রতিষ্ঠান নোবেল পুরস্কারে অর্থায়ন করে, তারা কমিটিকে এ ব্যাপারে সতর্ক করেছে। এ ধরনের কেলেঙ্কারি সাহিত্যে খেতাব প্রদানকারী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার ভাবমূর্তি খর্ব করবে বলে মত দিয়েছেন তারা। খবর সিএনএন ও নিউইয়র্ক টাইমসের।

১৯০১ সাল থেকে সুইডিশ একাডেমি নোবেল পুরস্কার দিয়ে আসছে। সুইডেনের দৈনিক পত্রিকা দাজেনস নেহাতার এক খবরে জানায়, একাডেমির গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাঁ ক্লোদ আহনুর বিরুদ্ধে ১৮ জন নারী যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন।

আহনু সুইডিশ কবি ক্যাটরিনা ফ্রসটেনসনকে বিয়ে করেছেন। তিনিও একাডেমির একজন সদস্য। তারা ব্যক্তিমালিকানাধীন সাংস্কৃতিক একটি ক্লাব পরিচালনা করেন। এটি ফোরাম হিসেবে পরিচিত। একাডেমির কাছ থেকে অর্থও পায় এই ফোরাম।

সুইডিশ ওই পত্রিকার খবরে বলা হয়, আর্নল্ট ওই ক্লাবে নারীদের সঙ্গে বাজে আচরণ করেছেন। সুইডেনের স্টকহোম এবং প্যারিসেও একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। ওই পত্রিকার খবরে আরো বলা হয়, ১৯৯৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত নোবেল প্রাইজ কমিটির গোপন খবরাখবর সাতবার ফাঁস করেছেন আহনু।

সুইডিশ পুলিশ এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। যদিও কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করে বলেছে, এগুলোর মধ্যে কিছু অভিযোগ খুবই পুরনো।

নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে জানা যায়, আহনু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সম্প্রতি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কমিটির ছয়জন সদস্য আহনুর স্ত্রী ফ্রসটেনসনকে কমিটি থেকে বের করে দেওয়ার পক্ষে ও আটজন সদস্য তাকে বোর্ডে রাখতে ভোট দেন। তবে ফ্রসটেনসন একাডেমি থেকে পদত্যাগ করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

নোবেল পুরস্কারে অর্থায়ন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার দেখভাল করে নোবেল ফাউন্ডেশন। গতকাল বুধবার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের কেলেঙ্কারিতে সুইডিশ একাডেমির প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসে চিড় ধরেছে। ফাউন্ডেশন আরো বলেছে, যৌন হয়রানির অভিযোগ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হারানো আস্থা ফিরে পেতে একাডেমির আরো অনেক সময় লাগবে বলেও জানিয়েছে ফাউন্ডেশন

 

"