গ্রামপঞ্চায়েত নিহতের জের

প্রাণভয়ে কুড়িগ্রামে আশ্রয় নিয়েছে ভারতীয় ৯ পরিবার

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্তে পাহারা ও টহল জোরদার করেছে বিজিবি

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

ভারতের কুচবিহার জেলার দিনহাটা থানার খারিদা খরিদাস গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই নিহতের ঘটনার জের ধরে সৃষ্ট উত্তেজনায় ওই এলাকার ৯টি পরিবার কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার গোরকমন্ডল এলাকায় ভারতীয় পরিবারগুলোয় নারী-পুরুষ ও শিশুদের দেখা গেছে। তবে এই অনুপ্রবেশের ব্যাপারে কিছু জানা নেই বলে জানিয়েছে বিজিপি।

গত বুধবার মধ্যরাতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ৯২৯/৫ এস আন্তর্জাতিক পিলারের পাশের ভারতের কুচবিহার জেলার দিনহাটা থানার খারিদা হরিদাস গ্রামের ৯-১০টি পরিবারের নারী-শিশু ও পুরুষ বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এ ঘটনার পরপরই বিজিবি টহল জোরদার রেখে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী লোকজনকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায়।

জীবনের ভয়ে পালিয়ে এসে ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন গোরকমন্ডল এলাকার নামাটারী ও উচাটারী গ্রামে আশ্রয় নেয় ভারতীয় খারিদা হরিদাস গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে শহিদুল হক, একই গ্রামের আবদুল হকের ছেলে শাহিন মিয়া, মোহাম্মদ আলীর ছেলে বদরু মিয়া, আবদুল আজিজের স্ত্রী শফিয়া বিবি। আশরাফ আলীর স্ত্রী বেনু বিবি জানান, তাদের এলাকার খারিদা হরিদাস গ্রামের তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) দলের পঞ্চায়েত মোঃ আবু হোসেন মিয়াকে একই দলের যুব সংগঠনের সশস্ত্রকর্মীরা বুধবার রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে সেগুন বাগানে নির্মমভাবে হত্যা করে। এরপর টিএমসি মাদার দলের কর্মীরা এসে আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। আমরা প্রাণ বাঁচাতে রাতেই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছি। বর্তমানে ভারতীয় ওই পরিবারগুলোর সদস্য আশরাফ আলী, শাহিন মিয়া, বদরু মিয়া, জহুরুল হক, মনসুর আলী, বাবলু মিয়া, আবদুল মালেক, ফজলু রহমান, জামাল উদ্দিন, সফিয়া বিবি, এশমা বিবি, বেনু বিবি, ভারতীয় খারিদা হরিদা ভোরাম জুনিয়র হাইস্কুলের ৭ম শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী পিংকি খাতুন, ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আর্বিনা খাতুন, গৃহবধূ হালিমাসহ অনেকে বাংলাদেশের গোরকমন্ডল এলাকায় আছেন।

ভারতীয় খারিদা হরিদাস ভোরাম জুনিয়র হাইস্কুলের ৭ম শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী পিংকি খাতুন, ৪র্থ শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী আর্বিনা খাতুন জানায়, আমাদের স্কুলে পরীক্ষা চলছে। কিন্তু দেশে যেতে পারছি না। তারা আমাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমরা ফিরে গেলেই তারা আমাদের মেরে ফেলবে।

গোরকমন্ডল সীমান্তের বাংলাদেশি অধিবাসী আবেদ আলী, লিলিমা বেগম, আমির আলী জানান, শুনেছি ভারতের খারিদা হরিদাস গ্রাম পঞ্চায়েত নিহত হয়েছেন। ফলে দুই দলের মধ্যে মারামারি-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে তারা পালিয়ে এসেছে। তারা ভারতীয় হলেও সবাই আমাদের প্রতিবেশী। মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে।

নাওডাংগা ইউনিয়ন পরিষদের গোরকমন্ডল এলাকার ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রাণ ভয়ে যারা বুধবার রাতেই বাংলাদেশে এসেছে তাদের সীমান্তের কয়েকটি বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

ফুলবাড়ী সীমান্তের দায়িত্বে থাকা লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি গোরকমন্ডল বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার রেজাউল করিম জানান, ভারতীয় কুচবিহার জেলার দিনহাটা থানার একজন পঞ্চায়েত নিহত হওয়ার ঘটনায় সীমান্তের ওপারে সৃষ্ট উত্তেজনার কারণে কিছু ভারতীয় বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল কিন্তু আমরা সীমান্তে টহল জোরদার রেখেছি। তবে বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয়দের অবস্থান বিষয়ে জানতে চাইলে এই কমান্ডার বলেন, যারা প্রবেশের চেষ্টা করেছে আমরা তাদের পুশব্যাক করেছি।

 

"