আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ছিনতাই!

রাজধানীতে গ্রেফতার ৬

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ছিনতাই করত তারা। বিত্তশালীরা ছিল তাদের টার্গেট। রাজধানীর বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও বাসস্টপেজে অবস্থান নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ভালো বেশভূষা ও অবস্থাসম্পন্নদের টার্গেট করত তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আটক ছয় ছিনতাইকারী সম্পর্কে এ তথ্য জানান র‌্যাবের পরিচালক (মিডিয়া) কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।

এর আগে, রাজধানীর রূপনগর এবং সাভার সদর এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ধারী সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করে র‌্যাব-১। গত বুধবার দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত রূপনগর ও সাভার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। রূপনগর থেকে আনিসুর রহমান (৩০), আরিফুল ইসলাম (৩৮), খালেদুল ইসলাম বাপ্পি (৩৫), এবং সাভার হিমান্দীপুর থেকে আবদুর রহমান (৪২), জানু মিয়া (৫০) ও শাহজাহানকে (৫০) আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল ও দুটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, অনেক সময় খোঁজখবর নিয়ে বিত্তশালীদের টার্গেট করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ধরে নিয়ে ছিনতাই করত চক্রের সদস্যরা। এই চক্রের মূল হোতা আনিসুর রহমান। সে প্রায় সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে মাসোয়ারাও আদায় করত। এ জন্য নকল আইডি কার্ড, ওয়াকিটকি সেটও সঙ্গে থাকত। তিনি জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে রাজধানীর রূপনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়। এরপর তাদের তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের হিমান্দীপুর এলাকা থেকে আরো তিন সদস্যকে আটক করা হয়। তারা অস্ত্র নিয়ে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আনিসুর রহমান পেশায় প্রাইভেট কার চালক। সে এই ছিনতাই চক্রের মূলহোতা। ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি নিজেই চালাত। ২০০৯ সালে রহমত নামের একজনের কাছ থেকে সে ছিনতাইয়ের কাজ শেখে। আরিফুল ইসলাম প্রথমে গার্মেন্টস শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। পরবর্তীতে সে প্রাইভেট কার চালানো শেখে এবং ছিনতাইকাজে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়ে। সে ২০১৪ সালেও রাঙামাটিতে ছিনতাই করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়।

তিনি বলেন, চক্রের অন্য সদস্য খালেদুল ইসলাম বাপ্পির আগে জুয়েলারি ব্যবসায়ী ছিল। সে ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে ছিনতাই করা স্বর্ণালংকার স্বল্পমূল্যে কিনত এবং সেগুলো দিয়ে নতুন অলংকার তৈরি করত। আসামি শাহজাহান মিয়া সাভারে থাই গ্লাস ও অ্যালুমিনিয়াম পাইপের ব্যবসা করত। সে ২০০৮ সাল থেকে ছিনতাই শুরু করে। পরে সেই অর্থ দিয়ে ব্যবসা শুরু করে। জানু মিয়া ২০০৯ সাল থেকে যাত্রাবাড়ীতে হালিম বিক্রি ও পরে ২০১৬ সালে সাভারে গিয়ে সাইট লেবারের কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন ছিনতাই কাজে অংশগ্রহণ করে।

তিনি বলেন, এই ছিনতাই চক্রের সদস্যরা প্রাইভেট কারের যাত্রীদের পরিবহনের নামে নির্জন জায়গাতে নিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিস ছিনিয়ে নিত। ছিনতাইয়ের কৌশল হিসেবে চক্রের সদস্যরা সাধারণ যাত্রীবেশে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যেমন, সাভার, নবীগনর, বাইপাইল, আব্দুল্লাহপুর, কালশী, কাকলী মোড়ে অবস্থান করত। পরে আলাপ-আলোচনা করে তাদের সঙ্গে সক্ষ্য গড়ে তোলে। এরপর এক গাড়িতে ভাড়ার বিনিময় পৌঁছে দেওয়া হবে বলে নিয়ে যায় এবং নির্জন স্থানে নিয়ে সর্বস্ব লুটে নেয়।

 

"