ব্রেকিং নিউজ

সুলতানা কামাল বললেন

রাষ্ট্র সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে নতি স্বীকার করছে

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, রাষ্ট্র রক্ষণশীল, সাম্প্রদায়িক, উৎসববিরোধী, নারী অধিকারবিরোধী শক্তির কাছে নতি স্বীকার করছে; যা খুবই লজ্জার বিষয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। পহেলা বৈশাখে উন্মুক্ত স্থানে আয়োজিত নববর্ষের সব অনুষ্ঠান বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে এবং রবীন্দ্রসরোবরের অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলতে পারবেÑ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ ধরনের ঘোষণায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। নারী নিরাপত্তা জোট আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি সুলতানা কামাল নারী নির্যাতন বিষয়টিকে আরো গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার জন্য গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। সুলতানা কামাল বলেন, ‘প্রতি মুহূর্তেই নারীর জন্য বাইরের জায়গা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। নারী কোথায় যাবেন, কোন পোশাক পরবেন, তা অন্যদের মাধ্যমে নির্ধারিত হচ্ছে। রাষ্ট্রও বিরোধী শক্তির কাছে নতি স্বীকার করছে। পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান কেউ চাইলে বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করতেই পারে। কথা সেটা না; কথা হলোÑ রাষ্ট্র কেন তা বলে দেবে? এটা তো রাষ্ট্রের দায়িত্ব না। নাগরিক উৎসবের মধ্যে বা কর্মক্ষেত্রে যেখানেই থাকুক, রাষ্ট্রের দায়িত্ব তাকে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা দেওয়া।’

সুলতানা কামাল জানান, রাষ্ট্রের ঘোষণা অনুযায়ী, বিকেল ৫টার পর যে কেউ যেকোনো কিছু ঘটাতে পারে। কোনো নারী তখন রাস্তায় থাকলে বা কোনো বিপদ হলে রাষ্ট্র তখন তাকে নিরাপত্তা দিতে পারবে না। বলবে, বিপদের কথা তো আগেই বলে দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মহুয়া লিয়া ফলিয়া। এতে পহেলা বৈশাখের আগে বিকেল ৫টার মধ্যে জনগণ উন্মুক্ত স্থানে থাকতে পারবে নাÑ এ ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া উন্মুক্ত স্থানগুলো যাতে নারী ও পুরুষের চলাচলের উপযোগী থাকে, তার ব্যবস্থা করা, নারীর নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি নারী নির্যাতনের ঘটনায় অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সেলিনা আহমেদ বলেন, যেকোনো উৎসবে মুক্তভাবে বিচরণ করার অধিকার সবার আছে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিরাপত্তা দেওয়া। রাষ্ট্র তা না করে উৎসবটাই নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। সব মিলে মনে হয়, রাষ্ট্র উল্টো দিকে হাঁটছে।

 

"