১৫ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন উদ্বোধন

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামীতে নৌকায় ভোট দিলে আরো সেবা পাবেন, ভালো থাকবেন। আবার সরকার গঠনের জন্য আপনাদের এলাকায় যাকে সংসদ সদস্য মনোনয়ন দেয়া হবে তাকে ভোট দিলে এবং আমরা সংসদে বেশি আসন পেলে সরকার গঠন করতে পারব। তখন আরো বেশি সেবা পাবেন এবং দেশের উন্নয়নে আপনারা সবাই ভালো থাকবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সে ভেড়ামারা ৪১০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ১৫টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি বিভিন্ন জেলায় উপকারভোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন। উপকারভোগীদের মধ্যে ছিলেন ছাত্রী, গৃহিণী, কৃষক, ব্যবসায়ী, ইমাম, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। এ সময় তিনি বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি নিজ হাতেই কিন্তু বিদ্যুতের সুইচগুলো অফ করি তাতে আমার কোনো সম্মান যায় না। নিজের কাজ নিজে করতে কোনো লজ্জা নেই। কিন্তু এতে সুবিধা পাবেন। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে বিলটাও কম আসবে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি। এছাড়া হুইপ আতিউর রহমান আতিক, জাপান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স, সংসদ সদস্য এবং পদস্থ সরকারি কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগ তুলে ধরেন।

শতভাগ বিদ্যুতায়নে আসা উপজেলাগুলো হচ্ছে ধামরাই, নিকলী, রাউজান, পীরগঞ্জ, খোকসা, দেবহাটা, রূপসা, ফুলতলা, দীঘলিয়া, বিয়ানীবাজার, দক্ষিণ সুরমা, বাঘাতিপাড়া, বেড়া, হবিগঞ্জ সদর এবং চুয়াডাঙ্গা সদর। প্রধানমন্ত্রী পরে বিদ্যুতায়িত ১২টি স্থানের জনগণের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময় করেন। এছাড়া শেখ হাসিনা অনুষ্ঠান থেকে উদ্ভাবনীমূলক অনলাইন ট্রেনিং প্লাটফর্ম ‘কুশলী’র উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে যখন সরকার থেকে চলে যাই তখন বিদ্যুৎ রেখে এসেছিলাম ৪ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট। এরপর আবার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে বিদ্যুৎ পেয়েছি ৩ হাজার মেগাওয়াট। মানুষ সামনের দিকে যায় আর বিএনপি সরকার গেছে পেছনের দিকে। অবশ্য তখন তারা বিদ্যুৎ দিতে না পারলেও খাম্বা দিয়েছে জনগণকে। কারণ তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান খাম্বার ব্যবসা করতেন। আগে শুধু সরকারিভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। আমরা ক্ষমতায় আসার পর বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করার সুযোগ করে দিয়েছি। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন আরো বাড়ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই দেশের মানুষ এই বিদ্যুৎ যথাযথভাবে ব্যবহার করবেন। বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে কিন্তু অনেক টাকা খরচ হয় এবং যে পরিমাণ টাকা খরচ হয় সেই টাকা, বিদ্যুতের দাম আমরা গ্রহণ করি নাÑ এখানে আমরা ভর্তুকি দিই। সেক্ষেত্রে আমি প্রত্যেককেই বলব, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী জনগণের উদ্দেশে বলেন, কীভাবে স্বল্প বিদ্যুৎ খরচ করে আপনারা আপনাদের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে পারেন, সেদিকে আপনাদের যতœবান হতে হবে। এমন না যে, সরকারি মাল দরিয়া মে ঢালÑ এটি করলে কিন্তু চলবে না। প্রত্যেককেই এ ব্যাপারে যথাযথভাবে আন্তরিক থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা এসব ইলেকট্রনিক ডিভাইস চার্জ শেষে চার্জারটি বিদ্যুতের সংযোগ থেকে খুলে রাখলেও অনেকটা বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যায় বলে উল্লেখ করেন। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্পর্কে শিক্ষাদানেও শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান। বিদ্যুতের পাশাপাশি পানি ব্যবহারেও সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে অপচয় রোধ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

"