নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

বাসের চালকসহ পাঁচজন রিমান্ডে

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

ঢাকার ধামরাই উপজেলায় চলন্ত বাসে এক নারী শ্রমিককে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় বাসটির চালকসহ পাঁচজনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার বিচারিক হাকিম আতিকুর রহমান এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আনোয়ারুল কবির বাবুল জানান, গত সোমবার ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা ধামরাই থানার পরিদর্শক জাকারিয়া আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আনোয়ারুল কবির বলেন, মঙ্গলবার আসামিদের কারাগার থেকে সকাল ১০টায় রিমান্ড শুনানির জন্য হাজির করা হলে বিচারক প্রত্যেক আসামিকে তিন দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। রিমান্ডে পাঠানো আসামিরা হলো বাসচালক বাবু মল্লিক, বলরাম, সোহেল, আবদুল আজিজ ও মকবুল হোসেন। এছাড়া গত সোমবার ধর্ষণের শিকার নারী বিচারিক হাকিম মনিকা খানের আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

ধামরাই থানার ওসি শেখ রেজাউল দীপু জানান, গণধর্ষণের শিকার ওই নারী শ্রমিক উপজেলার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।

গত রোববার কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার জন্য ওই নারী যাত্রীসেবা পরিবহনের ওই বাসটিতে ওঠেন। এ সময় বাসটির ভেতরে থাকা কয়েকজন যুবক, বাসচালক ও চালকের সহকারী মিলে ওই নারী শ্রমিককে ধর্ষণ করে। পরে ওই নারীর চিৎকার শুনতে পেয়ে ধামরাইয়ের পাল অটোরিকশা স্টেশনের সামনে থেকে পুলিশ বাসটি আটক করে। এ সময় বাস থেকে পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। পরে ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা করা হয়। গত সোমবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। ওই রুটে চলাচলকারী নারী শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ ঘটনার পর থেকে তারা আতঙ্কে আছেন। সন্ধ্যায় কাজ শেষে বাড়ি ফিরতে বাসে ওঠা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন। দুশ্চিন্তা করছেন তাদের পরিবারের সদস্যরাও। এর আগে গত বছরের ২৭ অক্টোবর চলন্ত বাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন চট্টগ্রামের এক পোশাকশ্রমিক। এছাড়া ওই বছরেরই ২৫ আগস্ট টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ঢাকার আইডিয়াল ল’ কলেজের ছাত্রী রুপা খাতুনকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয়।

"