ইলিশের আড়তে এখন তরমুজের গড়াগড়ি

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

বরিশাল প্রতিনিধি

গত বছরের তুলনায় এবার তরমুজের উৎপাদন বেশি, তবে খুচরা বাজারে এর দাম কমেনি। এদিকে প্রতি বছরের মতো বরিশালের পোর্ট রোডের ইলিশ মাছের আড়তগুলোতে এখন তরমুজের গড়াগড়ি। এখানকার ব্যবসায়ীরা প্রতি বছরই মার্চ ও এপ্রিল মাসের জন্য তরমুজের পেছনে টাকা খাটান। তাই আড়তগুলোতে এখন মাছের বদলে চলছে তরমুজের বেচাবিক্রি।

দিন যত যাচ্ছে পাইকারি বাজারে তরমুজের আমদানি তত বাড়ছে, শ্রমিকরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন ট্রলার থেকে তরমুজ নামানো এবং ট্রাকে সেগুলো তোলা নিয়ে। শ্রমিক আবদুর রশিদ জানান, আগে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় অলস সময় পার করতে হতো। তখন জমানো টাকা ভেঙে, না হয় ধারদেনা করে চলতে হতো। এখন দখিনের জনপদে তরমুজ চাষ বাড়ায় বাজারগুলোতে আমদানি বাড়ছে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও হচ্ছে। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চাষি হোসেন আলী বলেন, ‘প্রতি বছর তরমুজ চাষির সংখ্যা বাড়লেও এবারে গতবারের তুলনায় আবাদের পরিমাণ কম। এ বছর ফলন বেশি হলেও প্রাকৃতিক কারণে তরমুজের আকার-আকৃতি ভালো হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘গত ১০-১২ দিন আগে যখন বাজারে প্রথম তরমুজ আসে তখন ১০০ তরমুজ ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এখন বাজারে প্রচুর তরমুজের আমদানি হওয়ায় সেই দাম কমে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় নেমে গেছে। সামনে দাম আরো কমবে। এ রকম হতে থাকলে তরমুজ চাষিদের লোকসানে পড়তে হবে।’ তবে খুচরা বাজারের ক্রেতা হানিফ হাওলাদার বলেন, ‘গত সপ্তাহে যে তরমুজ কিনেছেন ৮০ টাকায় সেই তরমুজ আজ কিনছেন ১২০ টাকায়। পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরা বাজারে এর বিপরীত অবস্থা চলছে।’

পোর্ট রোডের আড়তদার রশিদ মিয়া জানান, দেরিতে হলেও পোর্ট রোডের ফলের ও মাছের আড়তগুলো তরমুজের বাজারে পরিণত হয়েছে। এখানে চাষি, আড়তদার, পাইকার, খুচরা ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের আনাগোনা এবং কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। আমদানি বাড়লে দাম কমে যাওয়া স্বাভাবিকÑ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে এ বাজারে ওয়ার্ল্ডকুইন, জাম্বু জাগুয়া, ড্রাগন, বিট ফ্যামিলি প্রভৃতি জাতের তরমুজই বেশি আসছে।

আড়তদার গণেশ সাহা জানান, প্রতি বছর এমন সময় বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ, টুঙ্গিবাড়িয়া, বুখাইনগর, ভোলার চরফ্যাশন, চরকাজী, লালমোহন, পটুয়াখালীর গলাচিপা, রাঙাবালিসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রচুর তরমুজ আসে। গত বছর এ সময় শিলাবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় তরমুজ চাষিদের লোকসান হয়েছে। ফলে এবার তরমুজ চাষ কমে গেছে। তবে এ বছর ঝড়বৃষ্টি কম হওয়ায়, ফলন বেশি হয়েছে। তাই বাজারেও আমদানি অনেক ভালো।

বরিশাল নগরের পোর্ট রোড ঘুরে দেখা গেছে, এখানকার একমাত্র সচল ও বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটির বেশিরভাগ আড়তের সামনের জায়গা মাছের বদলে তরমুজের দখলে চলে গেছে। যেখান দিয়ে প্রতিদিন ছোট-বড় অনেক নৌকায় করে মাছ আসত সেখানে এখন প্রতিদিন ফিশিংবোটসহ বিভিন্ন নৌ যানে করে বেপারি ও চাষিরা এ তরমুজ নিয়ে আসছেন। এসব তরমুজ আড়তদারদের কাছে থেকে পাইকাররা সড়ক ও নৌপথে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়া ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি বরিশালের স্থানীয় ও খুচরা বাজারেও এসব তরমুজ বিক্রি হচ্ছে।

"