কক্সবাজার বিমানবন্দরের হালচাল

যাত্রী পরিসেবা বাড়ায় রাজস্ব আয়ে উন্নতি

প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

রিহাব মাহমুদ

সমগ্র বিশ্বে কক্সবাজারের পরিচিতি এতদিন শুধু ছিল দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের কল্যাণে। অনেক দেশের মানুষ বাংলাদেশের নাম না জানলেও কক্সবাজারের নামটা জানে। সেই জানার পরিধি এখন শুধু আর পৃথিবীর সুন্দরতম সৈকতকে ঘিরে শুধু নয়। বরং দেশের গন্ডি পেরিয়ে ভিনদেশ থেকে সরাসরি বিমানযোগে সেই সৈকত দেখতে আসতে পারার অন্যতম উপায় কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ। সেদিন খুব বেশি দূরে নয়, যেদিন বিভিন্ন দেশের মানুষ সরাসরি আসবে কক্সবাজারে। কিন্তু এরইমধ্যে বিভিন্ন দেশের ভিভিআইপি, ভিআইপিদের অনেকে সরাসরি বিমানযোগে অবতরণ করেছেন কক্সবাজার বিমানবন্দরে। আর এতে করে কক্সবাজার বিমানবন্দরে বেড়েছে যাত্রী পরিসেবা।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেডের বিমান ও প্রাইভেট এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজের ২৪টি ফ্লাইট ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটে প্রতিদিন চলাচল করছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়ায় জাতীয় রাজস্ব আয়ও বেড়েছে তিনগুণ।

জানা গেছে, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলমান এই সম্প্রসারণের কাজ প্রায় ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। গত বছরের ৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বোয়িং ৭৩৭ বিমানযোগে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন এবং কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের শুভ উদ্বোধন করেন। এর পর থেকে আন্তর্জাতিক বিমান ও উড়োজাহাজ উঠা-নামা করছে কক্সবাজার বিমানবন্দরে। বিশেষ করে গত বছরের ২৫ আগস্ট কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকটের পর বিভিন্ন দেশের ভিভিআইপি, ভিআইপিদের অনেকে সরাসরি কক্সবাজার বিমানবন্দও থেকে উঠা নামা করেছে। পরিসেবার পাশাপাশি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিয়ে সন্তোষ দেশি নাগরিকদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের। বিমান ও উড়োজাহাজযোগে বিশেষ করে ইয়াবা পাচার রোধে হার্ড লাইনে রয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরে নিরাপত্তাকর্মীরা সার্চ ও পৃথক অভিযান চালিয়ে গত আড়াই বছরে দুই লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। যার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। এ সময় যাত্রীবেশী নারী ও পুরুষসহ ৫০ জন ইয়াবা পাচারকারীকে আটক করে।

আরো জানা গেছে, ইতোমধ্যে সরাসরি কক্সবাজার বিমানবন্দর হতে যাতায়াত করেছে তুরস্কের ফাস্ট লেডি, তুরস্কের উপপ্রধানমন্ত্রী, জর্ডানের রানি, মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী, তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, ১২টি দেশের নৌ বাহিনী প্রধানসহ অনেক দেশের ভিভিআইপি ও ভিআইপি লোকজন সরাসরি এই বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেছেন।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই বিমানবন্দর হতে সপ্তাহে চলাচল করত ১০টি ফ্লাইট। ২০১৬ সালে এর সংখ্যা দাঁড়ায় ১২টিতে। ২০১৭ সাল থেকে দৈনিক ১৬টি ফ্লাইট যাতায়াত করলেও বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেড ও প্রাইভেট এয়ারলাইনসের ৮টি কার্গোসহ ২৪টি বিমান ও উড়োজাহাজ ফ্লাইট প্রতিদিন নিয়মিত যাতায়াত করছে। নিñিদ্র নিরাপত্তা, বিমানবন্দরে নিয়মশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাসহ পরিচ্ছন্নতা বেড়েছে বহুগুণ। পাশাপাশি বেড়েছে রাজস্ব আয়সহ যাত্রী পরিসেবার মান।

দেশীয় একজন পর্যটক জানালেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা খুবই ভালো। এখানকার দায়িত্বরতদের সেবা নিয়ে আমি অত্যন্ত সন্তোষ্ট।

কক্সবাজার চেম্বার অ্যান্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সদস্য ও মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, আগামীতে সরকার ও সিভিল অ্যাভিয়েশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো প্রতিদিনই অবতরণের সম্ভাবনা রয়েছে। যাত্রী বিমান সরাসরি আসা যাওয়া করলে কক্সবাজার পর্যটনের সমৃদ্ধি তথা বহির্বিশ্বের সঙ্গে ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি হবে।

কক্সবাজার বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সাধন কুমার মোহন্ত বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরের ২০১৫ সালের পূর্বে বিমান, উড়োজাহাজ অবতরণ, পার্কিং, যাত্রী বহির্গমন ফিসহ অন্যান্য খাতে বছরে রাজস্ব আয় হত ৮০ লাখ টাকা। বর্তমানে এই আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে পৌনে দুই কোটি টাকায়। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নীতকরণ ও যাত্রী পরিসেবা বৃদ্ধি করায় এটা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

"