আনন্দ ভ্রমণে বিষাদের ছায়া

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে সোমবার ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিমান দুর্ঘটনায় নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কেশারখিল গ্রামের একই পরিবারের তিনজন এবং বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর গ্রামের একজনসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন।

তারা হলেনÑসোনাইমুড়ী উপজেলার কেশারখিল গ্রামের সাতানী ভূঁইয়া বাড়ির হাজী ইঞ্জিনিয়ার মরহুম জহিরুল ইসলাম সালেকের ছেলে রফিক জামান রিমু (৪৫), তার স্ত্রী সানজিদা হক বিপাশা (৩০) ও শিশুপুত্র অনিরুদ্ধ জামান (৮)।

তারা সপরিবারে ভ্রমণের জন্য নেপাল যাত্রা করেছিলেন।

নিহত রফিক জামানের চাচা হুমায়ুন কবির জানান, ইঞ্জিনিয়ার জহিরুল ইসলাম সালেকের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। তাদের মধ্যে নিহত রফিক জামান রিমু সবার ছোট। তার বড় ভাই রাজু কানাডা প্রবাসী। মা রওশন আরা থাকেন ঢাকার শুক্রবাদের ৮১ নন্বর নিজস্ব বাড়িতে রফিক জামানের সঙ্গে। গ্রামের বাড়িতে কেউ থাকেন না। তবে বিভিন্ন সময়ে তারা বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন।

তিনি আরো জানান, রফিক যশোরের মেয়ে সানজিদা হক বিপাশাকে বিয়ে করেন। তারা দুজনই এনজিওতে কর্মরত ছিলেন। নেপাল তাদের লাশ আনতে তিনজন আত্মীয় সেখানে যান। তাদের লাশ দেশে এলে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

অন্যদিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর গ্রামের ডা. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়ার ছোট ভাই ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানিতে কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ উদ্দিন ভূঁইয়ার স্ত্রী উম্মে সালমাও এ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

ডা. কামাল জানান, তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী উম্মে সামলা পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সহকারী প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি সরকারি এক সেমিনারে যোগদানের জন্য নেপাল যাত্রা করেছিলেন। তার সামারা নামের আড়াই বছরের একটি শিশুকন্যা রয়েছে। উম্মে সালমা স্বামী-সন্তান নিয়ে রাজধানীর বেইলি রোডের সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারে থাকতেন। তিনি আরো জানান, মঙ্গলবার তার ছোট ভাই মাসুদ উদ্দিনও উম্মে সালমার বড় ভাই তার লাশ আনতে নেপাল যান। হঠাৎ এ দুর্ঘটনায় জেলার এই দুই পরিবার ও তাদের আত্মীয়স্বজনরা হতবাক ও শোকাহত হয়ে পড়েন।

 

"