সীমানার খসড়া তালিকা চূড়ান্ত করতে ইসির বিশেষ সভা আজ

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়া চূড়ান্ত করতে আজ বুধবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই সভায় এ খসড়া অনুমোদন পেলে তার ওপর জনসাধারণের মতামত জানানোর জন্য প্রকাশ করবে ইসি। ইতোমধ্যে সীমানা নির্ধারণ-সংক্রান্ত কমিটি অর্ধশত আসনের সীমানায় পরিবর্তন এনে একটি খসড়া তালিকা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম ও কমিশন সচিব মো. হেলালুদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করেছে। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে অর্ধশতাধিক আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত হলেও বিভিন্ন মহলের চাপের মুখে তা কমিয়ে ৩৬টিতে ঠেকেছে। এসব আসনের সীমানায় ছোটখাটো পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন সৃষ্ট উপজেলা ও প্রশাসনিক ইউনিট এবং ছিটমহল এলাকা সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে সিইসি কে এম নুরুল হুদা, সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিটির প্রধান ও নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার দেখা করেছেন আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া ও এ বি এম রিয়াজুল কবীর কাওছার। বৈঠকে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সীমানা পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত নতুন আইনের খসড়া হলেও তা পাশ না হওয়ায় বিদ্যমান আইনেই সীমানা পরিবর্তন আসছে। এতে সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে উপজেলা অখন্ডতা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ২০১১ সালের আদমশুমারির রিপোর্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে সংসদীয় আসনের সীমানায় বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না। তারা আরো জানান, সম্প্রতি সীমানা পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত এক সভায় অর্ধশতাধিক আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু ওই খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিভিন্ন মহলের চাপ ও তদবিরের মুখে পড়ে কমিশন। পরে ওই খসড়ায় বেশ কয়েকবার পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ইসির তথ্যমতে, বর্তমান আশাশুনি, দেবহাটা ও কালিগঞ্জের চারটি ইউনিয়ন নিয়ে সাতক্ষীরা-৩ সংসদীয় আসন; যা ২০০৮ সালে বিন্যাস করা আসন অনুযায়ী নির্বাচন হয়ে আসছে। একইভাবে, শ্যামনগর উপজেলা এবং কালিগঞ্জের বাকি আট ইউনিয়ন নিয়ে বর্তমান সাতক্ষীরা-৪ সংসদীয় আসন।

বর্তমান খান মো নুরুল হুদা কমিশন উপজেলা অখন্ড রেখে সীমানা বিন্যাস করার জন্য শ্যামনগর-কালিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে সাতক্ষীরা-৪ এবং দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলা নিয়ে সাতক্ষীরা-৩ আসন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে, যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে সংক্ষুদ্ধ এলাকার অধিবাসীরা আবেদন করলে শুনানিতে আসন বিন্যাসে পরিবর্তন আসতে পারে বলে কমিশনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় কয়েকটি ওয়ার্ডকে একীভূত করা হচ্ছে।

ইসি সূত্র জানায়, সংসদীয় আসনের খসড়া প্রকাশের পর আপত্তি জানানোর জন্য সময় দেবে কমিশন। ওইসব দাবি আপত্তির উপর শুনানির আয়োজন করবে ইসি।

 

"